ইরানের টেলিভিশনে পুরনো ছবি দেখিয়ে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি!

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে, এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে খুনের হুমকি দিয়েছে তার রক্তাক্ত মুখের পুরোনো একটি ছবি প্রচার করে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ায় হামলা চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া ট্রাম্পের রক্তাক্ত মুখের সেই ছবি প্রচার করে এমন বার্তা দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি।
সে সময় পেনসিলভেনিয়ার জনসভায় বন্দুকধারীর গুলি থেকে অল্পের জন্য ট্রাম্প রক্ষা পেলেও কান ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া সেই গুলিতে রক্তাক্ত হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তখন বিশ্ব গণমাধ্যমে এসেছিল ট্রাম্পের রক্তমাখা মুখের সেই ছবি। ওই ছবি সম্প্রচার করেই ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল ক্যাপশনে পার্সি ভাষায় বার্তা দিয়েছে, ‘এবার আর বুলেট লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না!’
ইসরায়েলের আই২৪ নিউজ এবং জেরুজালেম পোস্ট পত্রিকার এক সংবাদিক পার্সি ভাষা থেকে অনুবাদ করে এক্সে এই পোস্ট শেয়ার করেছেন।
নিউজউইক জানায়, ট্রাম্পের ছবিটি বুধবার টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হয় তেহরানে এক শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলার সময়। ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ লেখা ব্যানারের মধ্যে দেখানো হয় ছবিটি।
ইরানের টিভি চ্যানেলে এই ছবি দেখিয়ে একথাই বলা হয়েছে যে, আগেরবার ট্রাম্প অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও এবার আর রক্ষা পাবেন না। অর্থাৎ, দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়াই এখন তাদের লক্ষ্য— এ বার্তাই যেন দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পকে দওয়া এটিই ইরানের সবচেয়ে স্পষ্ট হুমকি। ইরানের কর্মকর্তারা দেশের অভ্যন্তরীন অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে দেশটিতে হামলার অজুহাত খোঁজার অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ ইরান। মূল্যবৃদ্ধি আর মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। সেই বিক্ষোভ দেশটির শাসকদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়ে বলেন যে, ইরান যদি কঠোরভাবে বিক্ষোভে দমনপীড়ন চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদেরকে উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। ট্রাম্পের এই নাক গলানো ঘিরেই চটেছে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের সেই রক্তমাখা মুখ, মুষ্টিবদ্ধ হাত আর কান ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া বুলেটের স্মৃতি উসকে দেওয়া ছবি সম্প্রচার করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যেন সমঝেই চলতে বলেছে ইরান।
যদিও এই বার্তার বিষয়ে ওয়াশিংটন বা ইরান কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এ ঘটনায় যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন বিশ্লেষকরা।


















