ইরানি মিসাইলের ভয়ে বাঙ্কারে রাত কাটছে লাখো ইসরাইলির

ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা একের পর এক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলার আতঙ্কে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইসরাইলের স্বাভাবিক জনজীবন। গত শুক্রবার (৬ মার্চ) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় এই হামলার কারণে লাখ লাখ ইসরাইলি নাগরিককে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মাটির নিচে অবস্থিত বোম্ব শেল্টার বা বাঙ্কারে রাত কাটাতে হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাত থেকে ইসরাইলের তেল আবিব, জেরুজালেম এবং হাইফাসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে মুহুর্মুহু সাইরেন বেজে ওঠে। আলজাজিরার তথ্যমতে, মধ্যরাতের পর থেকে অন্তত পাঁচটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল ইসরাইল অভিমুখে ছোড়া হয়েছে। হামলার সংকেত পাওয়ামাত্রই সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে নিকটস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। অনেক পরিবারের জন্য এই পরিস্থিতি এক দীর্ঘ ও নির্ঘুম রাতের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে মিসাইল ছুড়ছে। এই কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ বাঙ্কারে বন্দি রেখে তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ তৈরি করা এবং ইসরাইল সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। এই ধারাবাহিক উত্তেজনার ফলে দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছিল, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান অন্তত ১,০০০ মিসাইল ছুড়তে পারে। তবে বাস্তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সংখ্যার এই বিশাল ব্যবধানকে ইসরাইল তাদের সামরিক সাফল্য হিসেবে দাবি করছে। তাদের মতে, ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত ‘অপারেশনাল সাকসেস’ বা সফল অভিযানের কারণে ইরান তার পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী বড় আকারের হামলা চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
হামলার সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাঙ্কারে অবস্থান করার ফলে ইসরাইলি নাগরিকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা দীর্ঘ সময় ভূগর্ভস্থ কক্ষে অবস্থান করায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা

















