বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে নগরীতে একটি ঝটিকা মিছিল বের করার পরিকল্পনা করছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পায় পুলিশ। এই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত নগরীর সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা, ধোপাবাড়ির মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পয়েন্টে চিরুনি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ১১ জন সক্রিয় নেতাকর্মীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ওসি আল মামুন উল ইসলাম আরও জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং আটককৃতদের মোবাইল ফোনসহ ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া এই চক্রটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা এবং এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
পরবর্তীতে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও নাশকতার অভিযোগে নগরীর বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া নিয়মিত মামলাগুলোতে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আজ বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সবাইকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নগরীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা রুখতে পুলিশের নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।