দীর্ঘ ১৫ বছরের নির্বাসন এবং রাজনৈতিক নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এক রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটল প্রবীণ রাজনীতিবিদ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ৬ কন্যা সন্তানের জনক এই নেতার রাজনৈতিক জীবন ছিল কণ্টকাকীর্ণ। এক সময় মিথ্যা হত্যা মামলায় দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটাতে হলেও, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে তিনি সংসদীয় জীবনের ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ পূর্ণ করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার হিসেবে। তিনি ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে সংসদের হুইপ এবং ১৯৯০ সালে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে চতুর্থবার এবং ২০০৮ সালে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০১০ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তাকে জড়িয়ে দেওয়া হলে তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর প্রবাসে নির্বাসিত থাকেন। নির্বাসনে থেকেই তিনি মুরাদনগর ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন এবং ২০১৬ সালে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন হন।
মন্ত্রিত্ব লাভের পর এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হলেও কায়কোবাদ অত্যন্ত বিনয়ী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, “আমি ফুল নেব না— নফল নামাজ পড়ে দোয়া করলে খুশি হব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি এখন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই করবেন। সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, মুরাদনগরের মানুষ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া এই আস্থার প্রতিদান তিনি সততার সাথে দিতে চান। একজন জননেতাকে সঠিক মূল্যায়ন করায় এলাকাবাসীও বর্তমান সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।