বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পুরস্কার আয়োজনে তারকাদের দেহরক্ষী (বডিগার্ড) নিয়ে উপস্থিত হওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। তাঁর মতে, তারকাদের এমন আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার প্রয়োজনের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব, আভিজাত্য বা গুরুত্ব প্রকাশের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাপ্পারাজ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতে চলচ্চিত্রের শিল্পীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তার তেমন কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না। বর্তমানে পরিবেশের কারণে কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও, আগে কেউ কেউ কেবল নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নিরাপত্তাকর্মী সঙ্গে রাখতেন বলে তাঁর ধারণা।
এই বডিগার্ড কালচারের সমালোচনা করে বাপ্পারাজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি নিজে কখনো বডিগার্ড নিয়ে চলাফেরা করিনি এবং এটিকে প্রয়োজনীয়ও মনে করি না।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক সময় এমন ব্যক্তিদেরও একাধিক দেহরক্ষী নিয়ে চলতে দেখা যায়, যাদের চলচ্চিত্রে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ নেই কিংবা দর্শকদের কাছেও তেমন কোনো জনপ্রিয়তা নেই।
নির্বাচনী ভাবনা প্রসঙ্গে এই চিত্রনায়ক শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্যের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, শিল্পীদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ থাকা উচিত নয়; বরং সবাইকে এক পরিবারের মতো একসঙ্গে থাকার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
এদিকে নির্বাচনী ইশতেহার বা প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাপ্পারাজ কিছুটা রক্ষণশীল ও বাস্তবসম্মত অবস্থান নেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তিনি কোনো বড় বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমে সংগঠনের প্রকৃত আর্থিক ও প্রশাসনিক অবস্থা এবং সমস্যাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, এরপর সবার সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।