মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট এবং জেলিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (CJNG) প্রধান নেমেসিও ওসেগুয়েরা ওরফে ‘এল মেঞ্চো’-র মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি রহস্যময় ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, “আমরাই শুধু জিতে যাচ্ছি, এটা ঠিক হচ্ছে না! এমনটা চলতে থাকলে কীভাবে হবে?” সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও ট্রাম্পের এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য যে মেক্সিকোর মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেট এবং তাদের ব্যর্থতার দিকেই নিশানা, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
আমেরিকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ এই সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যে বিপুল পরিমাণ মাদক প্রবেশ করে, তা বন্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোকে আরও কঠোর হতে হবে। এল মেঞ্চোর পতনকে ট্রাম্প তাঁর সেই কঠোর নীতিরই একটি বড় জয় হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্কিন সরকারের একটি বিশেষ রিপোর্টে মেক্সিকো ও কলম্বিয়াকে আমেরিকায় মাদক সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাম্প এর আগেও অভিযোগ করেছিলেন যে, মেক্সিকোর সরকার নয়, বরং সে দেশ পরিচালনা করছে শক্তিশালী মাদক কার্টেলগুলো। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের হুমকির পর এবার মেক্সিকোর মাদক সম্রাটকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মাদক সন্ত্রাস রুখতে প্রয়োজনে আমেরিকা যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর মেক্সিকোর সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ট্রাম্প দাবি করেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবম পার্ডোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো, তবুও মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তিনি যে কোনো আপস করবেন না, তা ‘এল মেঞ্চো’ পরবর্তী এই প্রতিক্রিয়ায় আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।