আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক দাবি করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মানবাধিকার সংগঠন।
ওয়াশিংটনভিত্তিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘ডেমোক্রেসি ফর দ্য আরব ওয়ার্ল্ড রাইটস’ এবং নিউইয়র্কের ‘ট্যাক্সপেয়ার অ্যালায়েন্স এগেইনস্ট জেনোসাইড’ যৌথভাবে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে এই মামলাটি দায়ের করে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা মার্কিন নাগরিকদের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতাভুক্ত মতপ্রকাশ ও স্বাধীনভাবে যুক্ত হওয়ার অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
২০২৪ সালের শেষভাগে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এর প্রতিক্রিয়ায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এই আদেশের আওতায় আইসিসির বিচারক, কৌঁসুলি, ফিলিস্তিনের তিনটি প্রধান মানবাধিকার সংগঠন (আল-হাক, আল-মিজান ও ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস) এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর কারণে মার্কিন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা আইসিসি বা ফিলিস্তিনি সংস্থাগুলোর সাথে কোনো তথ্য আদান-প্রদান বা পেশাদারী কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। এতে অবাধ্য হলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও বিপুল অর্থ জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আইনি নথিতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো ‘ভোঁতা অস্ত্র’ ব্যবহার করে মূলত লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং ফিলিস্তিন সংক্রান্ত অ্যাডভোকেসিকে নিয়ন্ত্রণ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এই নিষেধাজ্ঞা আইসিসির তদন্ত বন্ধে সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এটি কেবল মার্কিন নাগরিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এই মামলায় সরাসরি বিবাদী করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের পরিচালক ব্র্যাড স্মিথকে।
মামলা দায়েরের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, আইসিসি মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বড় হুমকি এবং এই মামলাটির উদ্দেশ্য আইসিসির ক্ষমতার অপব্যবহারকে আরও উসকে দেওয়া। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজনে "ইট দিয়ে ইট খসিয়ে" আইসিসিকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং নেদারল্যান্ডস। ইইউর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক আদালতের কর্মকর্তা বা তাদের সহযোগীদের ওপর এমন হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং মার্কিন নাগরিকদের অধিকার হরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহারের এক বিপজ্জনক পথ তৈরি করছে।