ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কিছু মহলের অহেতুক ইস্যু তৈরি করে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত, পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের পথ সুগম করছে কি না, তা গভীরভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ আর কখনোই কোনো তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।
বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সরকারি বাসভবন গণভবনকে রূপান্তরিত করে এই স্মৃতি জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এর আগে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘর প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাগণ। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করেন। ফলক উন্মোচনের পর মহান গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বা দেশের ভেতরে কোনো উগ্রবাদ-চরমপন্থার স্থান হবে না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণের মৌলিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম। আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মুগ্ধসহ শত শত শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি একটি বৈষম্যহীন ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। তিনি সেখানে সংরক্ষিত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিভিন্ন স্মারক, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, অডিও-ভিজ্যুয়াল ক্লিপিংস এবং শহীদদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পরিদর্শন করেন। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনের শেষ মুহূর্ত ও শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তৈরি একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপভোগ করেন।