জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ফলাফলের গেজেট প্রকাশে ‘তড়িঘড়ি’ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুর ইসলাম সরকার।
বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর যথাসময়েই নির্বাচিতদের নামসহ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বলেছেন, এ বিষয়ে কারো অভিযোগ থাকলে তারা আদালতে যেতে পারেন।
বৃহস্পতিবার দেশের ২৯৯ আসনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। পরদিন শুক্রবার রাতেই ২৯৭ আসনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এবারের ভোট নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ‘তড়িঘড়ি’ গেজেট করার অভিযোগ তুলে দলটির নেতারা ৩২টি আসনে ফল পুনর্গণনার দাবি নিয়ে রোববার নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
পরে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমরা দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছি; উনাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। তড়িঘড়ি করার প্রশ্নই আসে না। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় গেজেট করা হয়েছে। …গেজেট হয়ে যাওয়ার কারণে অভিযোগের সুযোগ নেই।’
দলটির দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ হয়নি। বরং আইনের ভেতর থেকেই, নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রযুক্তির যুগে আর স্মার্টভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আরো আগে প্রকাশ করা গেলে আরো ভালো হত।’
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘এবার ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ছিল স্বচ্ছ। সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে। সবকিছু ছিল আয়নার মতো পরিষ্কার। যখন যে অভিযোগ আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে, শতভাগ অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করেছি এবং সমাধান করেছি। আইনগত দাবির বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণের দরকার রয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অভিযোগ থাকলে তারা হাই কোর্টের শরণাপন্ন হলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।’
গণপ্রতিনিধি আদেশের (আরপিও) ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটের ফল নিয়ে কোনো ধরনের বিরোধ থাকলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জনের গেজেট করা হয়েছে, মঙ্গলবার তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর পর ভোট বাতিল হয়েছিল আগেই। আসনটি নতুন করে তফসিল দেবে ইসি। এছাড়া প্রার্থিত নিয়ে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম–২ ও ৪ আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এবার বিএনপি চেয়ারম্যান দুটি আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি একটি আসন ছেড়ে দেবেন। সেক্ষেত্রে অন্য আসনে উপ নির্বাচন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘দুটি আসনের মধ্যে তিনি (তারেক রহমান) কোনটি রাখবেন ও কোনটি ছেড়ে দেবেন–এখনও এ বিষয়টি ইসিতে আসেনি। শেরপুর-৩ এর নির্বাচনও করতে হবে। কমিশন এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কবে তফসিল। অচিরেই সিদ্ধান্ত নিলে জানানো হবে।’
আসন ছেড়ে দেওয়ার পর শূন্য ঘোষণা করে গেজেট করবে ইসি সচিবালয়। এরপর উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান দুপুরে বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগণনা, ফলাফল প্রকাশের ত্রুটির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে ৩২টি আসন তারা চিহ্নিত করেছেন।