স্পেন নিয়ন্ত্রিত উত্তর আফ্রিকার স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় আকস্মিক অভিবাসী সংকটের পর শনিবার থেকে মরক্কো সীমান্তে সাগরে ৫০০ মিটার দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধকতা বসানোর কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী সমুদ্র ও স্থলপথে সেউতা সীমান্তে আকস্মিক ঢল নামানোর পর এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় হুড়োহুড়ি ও ডুবে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তারাজাল উপকূলের ব্রেকওয়াটার বরাবর ৫০০ মিটার দীর্ঘ এলাকায় এই প্রতিবন্ধকতা বসানো হচ্ছে। এটি মূলত একটি নিউমেটিক বা বাতাসচালিত ভাসমান ব্যারিয়ার। পানির ওপর ৩০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার উঁচুতে থাকবে এই ব্যারিয়ার।
এটি পানির নিচে প্রায় ১ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। নৌবাহিনীর নোঙর করা বিশেষ ব্যবস্থায় এটিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর মাঝখানের চ্যানেল দিয়ে স্পেনের সিভিল গার্ড বাহিনী নিয়মিত টহল দিতে পারবে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে প্রায় ৫০,০০০ এর বেশি মানুষ সীমান্ত ভেঙে ও সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করে। কার্যকর পদক্ষেপের ফলে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪৮,০০০ এর বেশি অভিবাসী স্বেচ্ছায় বা আইনি প্রক্রিয়ায় পুনরায় মরক্কোয় ফেরত গেছে।
এই ঘটনা সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী মঙ্গলবার ইইউ-এর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
এই সংকটের জের ধরে ইতালি সরকার স্পেনের সাথে তাদের পাসপোর্টহীন 'শেনজেন' ভ্রমণ সুবিধা সাময়িকভাবে এক মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। ইতালির এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ।
স্পেন সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশকারী কোনো অভিবাসীকে স্পেনের মূল ভূখণ্ড কিংবা ইউরোপের অন্য কোথাও যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।