শিক্ষকদের সমাজের ‘আলোকবর্তিকা’ হিসেবে অভিহিত করে অবসরকালীন সুবিধার অর্থের জন্য তাদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আর কোনো মধ্যস্বত্তভোগীর যন্ত্রনা সইতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই আপনাদের একাউন্টে পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ।’
শনিবার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা এখনো সমাজের শিক্ষক। বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এখনো জনমানসে আপনাদের ভূমিকা সর্বজনগ্রাহ্য। আপনারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের চলমান এই সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখবেন এই প্রত্যাশা রাখছি।’
এসময় তারেক রহমান বলেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানে একটি কথা তুলে ধরতে চাই, যতদিন আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আপনাদেরকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে আপনাদের আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে না হয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতি মাসে যে টাকা জমা দেন, সেই টাকার সঙ্গে সরকারও প্রতিটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে একটি অ্যামাউন্ট জমা করে। এর উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকা যাতে একটি ভালো অ্যামাউন্ট হাতে পান। উদ্দেশ্য মহৎ হলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, চাকরিজীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষক সমাজ, যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীদের বড় করে তোলেন, তাদেরকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, আমি মনে করি সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের হীনতা-দ্বীনতাই প্রকাশ পায়।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘যতদিন আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে যেন আপনাদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে না হয়। আর কোনো ভোগান্তি আপনাদেরকে পোহাতে হবে না এই সংক্রান্ত বিষয়ে। আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা এই বিষয়ে আপনাদেরকে ভোগ করতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে যথা সময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই আপনাদের অ্যাকাউন্টে যাতে পৌঁছে যায়, আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণে তার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি এই তহবিলের সরকারি ফান্ড থেকে প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এই তহবিলের ভিত্তিকে সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করেন।