দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাই এবং মব জাস্টিসসহ যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসব অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ঊর্ধ্বতন কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হবে না; সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা আইন মেনে সরাসরি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করবেন।
গতকাল রোববার দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আইজিপি এই বিশেষ বার্তা দেন।
বৈঠকে আইজিপি বলেন, "যেকোনো মূল্যে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন কোনো রাজনৈতিক দলের তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না।" বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন প্রচেষ্টা বা স্লোগান দেওয়ার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের কাজে বাধা বা 'মব সন্ত্রাস' সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধেও পুলিশকে সর্বোচ্চ শক্তিতে আইন প্রয়োগ করতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে কয়েকজন পুলিশ সুপার জানান, নবনির্বাচিত অনেক সংসদ সদস্য সশস্ত্র গানম্যান দাবি করছেন। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কেবল মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা গানম্যান পেয়ে থাকেন। তবে গত ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারিকৃত ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে সশস্ত্র দেহরক্ষী বা রিটেইনার নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। সংসদ সদস্যরা চাইলে এই নীতিমালার অধীনে আবেদন করতে পারবেন।
মহাসড়কে ডাকাতি রোধে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি। তিনি বলেন, দায়িত্ব নিয়ে কোনো ধরনের 'ঠেলাঠেলি' বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ডিউটি চলাকালীন 'বডি ওর্ন ক্যামেরা' ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে পুলিশের নতুন পোশাক নিয়ে বাহিনীর ভেতরে থাকা অসন্তোষের বিষয়টি উঠে আসে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমান পোশাকটি সাধারণ নিরাপত্তারক্ষীদের পোশাকের মতো হওয়ায় পুলিশের স্বকীয়তা ও মনোবল ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার এসপি মো. আনিসুজ্জামান জানান, এই পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে তারা দ্রুতই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন।
বৈঠকে একজন ডিআইজি অভিযোগ করেন, লটারির মাধ্যমে ওসি পদায়ন করায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ থানায় অদক্ষ কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারির পর নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা শেষ হলে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে লটারি ছাড়াই পদায়নের আশ্বাস দিয়েছেন আইজিপি। এছাড়া অনেক থানায় যানবাহন সংকটের কারণে অপরাধ দমনে বেগ পেতে হচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।