দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে দিনে প্রায় দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ এবং বিদেশে পাচার করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের মূল হোতাসহ মোট আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চলতি মে মাসেই অনলাইন জুয়ার ১১৬টি সাইট, অবৈধ লেনদেনে জড়িত ৮৭৯টি এমএফএস ও ৪৩টি ব্যাংক হিসাব বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে সিআইডি।
আজ রোববার (১৭ মে) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থার প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), সজীব চক্রবর্তী (২৯), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), মো. জসীম উদ্দীন (৩৬), তৈয়ব খান (২৬), সৌমিক সাহা (২৮), মো. কামরুজ্জামান (৩৬) ও আব্দুর রহমান (৪৭)।
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে এসব সাইটে অর্থ লেনদেন করতেন। পরে এই টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। গত প্রায় ছয় মাস ধরে চক্রটি প্রতিদিন ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করে আসছিল।
তিনি আরও জানান, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় বিষয়টি নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা করা হয়। পরে গত ৬ মে সিআইডির একটি দল ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশরাফ, সঞ্জীব, আশরাফুল ও জসীমকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ ১৭ মে নরসিংদীর পলাশ এবং ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের বাকি চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান দুটি থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে সিআইডি। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর একাধিক কুরিয়ার রসিদ। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়ে সিআইডি প্রধান বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।