৮০ কেজির বদলে ৫০ কেজি চাল, জেলেদের ক্ষোভ

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকাকালীন কর্মহীন জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চালে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ কেজি। এ ঘটনায় উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের জেলেদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। দৌলতখানের হাজিপুর ইউনিয়নে প্রতিটি জেলে পরিবারের অনুকূলে দুই মাসের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বিতরণের সময় জেলেরা দেখতে পান, বস্তায় চালের পরিমাণ অনেক কম। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিজনকে ৩০ কেজি করে চাল কম দিয়ে মাত্র ৫০ কেজি করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, অভাবের সময় সরকারি এই সহায়তা তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে তাদের প্রাপ্য চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে অনেককে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গণমাধ্যমে এই অনিয়মের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি-এর নির্দেশনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, মৎস্য অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দীকে প্রধান করে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃত উপকারভোগীদের পাওনা নিশ্চিতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত মনিটরিং করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও জেলেদের দাবি, যারা গরিবের হকের চাল চুরি করেছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।

















