‘৭২-এর সংবিধান মানলে শেখ হাসিনারও এখন দেশে থাকার কথা ছিল’

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, আজকে যদি সংবিধানের লাইন ধরে ধরে আমাদের চলতে হতো, তবে আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির মঞ্চে যেতে হতো না। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারতো, তবে ৭২-এর সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা ছিল না। এমনকি সংবিধান মানতে হলে শেখ হাসিনারও এখন বাংলাদেশে থাকার কথা, উনার দেশের বাইরে থাকার কথা না।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ডা. মাসুদ বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর যে গণভোটের দাবি উঠেছে, তাকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। আপনারা ৫১ শতাংশের দোহাই দিলেও প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণবিপ্লব ও গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই বিপুল জনআকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করলে বাউফল-পটুয়াখালীসহ গোটা বাংলাদেশ আবারও জেগে উঠবে।”
নিজের ওপর হওয়া রাজনৈতিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি সংসদে জানান, তার বিরুদ্ধে ৩৫০টি মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘ সাড়ে চার বছর জেল খেটেছেন। তিনবার রি-অ্যারেস্ট এবং দুইবার গুমের শিকার হওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ডিজিএফআই থেকে আমাকে মন্ত্রিত্ব ও দেশ পরিচালনার ভাগ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল শেখ হাসিনার নীতি ও ৭২-এর সংবিধান মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমরা কোনো আপস করিনি।”
সংবিধান সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট বলেছিলেন—সুযোগ পেলে আমরা ৭২-এর এই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেব। অথচ আজ বর্তমান সরকারি দলের মধ্যে সেই সংবিধানের প্রতি কেন এত প্রেম জাগ্রত হয়েছে, তা দেশের মানুষ জানতে চায়।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে গুম-খুনের ‘আয়নাঘর’কে পরোক্ষভাবে সমর্থন করা। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় জাতিকে আবারও সেই ১৭ বছরের অন্ধকার জেল-জুলুমের যুগে ফিরে যেতে হবে।

















