সময়ের জনমাধ্যম

২১শ শতাব্দীর প্লাস্টিক দূষণ ও দূষণরোধে করণীয়

বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ কনফারেন্স (United Nations Conference on the Human Environment) শুরু হয়েছিল। এই কনফারেন্স হয়েছিল ১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন অবধি। কনফারেন্স ওই বছরই বিশ্ব পরিবেশ দিবস চালু করেছিল জাতিসংঘের সাধারণ সভা। তখন থেকেই প্রতি বছর এই দিবস পালন করা হচ্ছে। দিবসটি প্রথম পালিত হয় ১৯৭৪ সালে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ জুন, ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে জাতিসংঘ পরিবেশ (UN Environment) কর্তৃক এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য (Theme) নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Solutions to Plastic Pollution’ যার বাংলা ভাবানুবাদ করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক দূষণের সমাধানে সামিল হই সকলে।’  এর শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘Beat Plastic Pollution’ যার বাংলা ভাবানুবাদ করা হয়েছে ‘সবাই মিলে করি পণ, বন্ধ হবে প্লাস্টিক দূষণ।’

পরিবেশে পচনরোধী প্লাস্টিকজাতীয় দ্রব্য, উপজাত, কণিকা বা প্লাস্টিকের দ্রব্য নিঃসরিত অণুর সংযোজন; যা মাটি, পানি, বায়ুমণ্ডল, বন্যপ্রাণি, জীববৈচিত্র্য ও মানবস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাকে সাধারণভাবে প্লাস্টিক দূষণ বলা হয়। প্রাত্যহিক জীবনে আমরা যা ব্যবহার করি, তার অধিকাংশই প্লাস্টিকের তৈরি। প্লাস্টিক হচ্ছে কৃত্রিমভাবে তৈরি পলিমার, যা মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি করা হয়। প্লাস্টিক সাধারণভাবে নমনীয় (সহজে বাঁকানো যায়), ক্ষয়রোধী, দীর্ঘস্থায়ী ও সস্তা।

আমাদের মাটি, পানি, বায়ু প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক দ্বারা দূষিত হচ্ছে। এছাড়া প্লাস্টিক স্টিরিন নামক ক্ষতিকর পদার্থ নির্গত করে, যা মানবদেহে তৈরি করতে পারে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি। মোটকথা, প্লাস্টিক পদার্থটি কোনভাবেই পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য উপকারী নয়, বরং এর ব্যবহারে পরিবেশ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাতে মাশুল দিতে হবে আমাদেরই। এক গবেষণায় দেখা গেছে সমুদ্রে প্রতিবছর ৮০ লাখ টনেরও অধিক পরিমাণ প্লাস্টিক দূষণ হয়। তাই প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন। প্লাস্টিকের পরিবর্তে অন্যকিছু ব্যবহার করুন।

আলেকজান্ডার পার্কস ১৮৫৫ সালে প্রথম মানবসৃষ্ট প্লাস্টিক আবিষ্কার করেন এবং এর নাম দেন পার্কেসিন। এটি তৈরি করা হয়েছিল উদ্ভিদের সেলুলোজ ও নাইট্রিক অ্যাসিডের মধ্যে বিক্রিয়া করে। তবে ১৯০৭ সালে লিও বেকল্যান্ড সম্পূর্ণ সিনথেটিক প্লাস্টিক আবিষ্কার করেন এবং এর নাম দেন বেকেলাইট। তিনিই প্রথম প্লাস্টিক শব্দটি ব্যবহার করেন।

গত ৫০ বছরে পৃথিবীতে মাথাপিছু এক টনের বেশি প্লাস্টিকের দ্রব্য উৎপাদিত হয়েছে। এসব পচনরোধী প্লাস্টিক বর্জ্য শতকরা ১০ ভাগ পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলেও বাকি ৯০ শতাংশের বেশি পৃথিবীর পরিবেশকে নানাভাবে বিপন্ন করে তুলেছে। এসব ক্ষতিকর পচনরোধী বর্জ্য পরিবেশে ৪০০ থেকে এক হাজার বছর পর্যন্ত থাকতে পারে এবং তা মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণাসহ নানা ক্ষতিকর পদার্থ নিঃসরণ করে প্রতিবেশে ও মানব স্বাস্থ্যে ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পৃথিবীতে প্রতি বছর ৪৫ কোটি টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে যোগ হচ্ছে। এসব বর্জ্যের ৫১ শতাংশ উৎপাদন হচ্ছে এশিয়া মহাদেশে। প্লাস্টিক দূষণ বিশ্বের সব দেশে এবং সব পরিবেশে, এমনকি মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া, গভীর সমুদ্রের তলদেশ এবং মেরু অঞ্চলেও বিস্তৃত। মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা এবং নানারকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, যেমন ‘বিসফেনল-এ’ পরিবেশে নির্গত হয়। এসব কণা ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মানুষ ও অন্যান্য জীবের হরমোনাল সিস্টেম নষ্ট করতে পারে। ফলে প্লাস্টিক দূষণ মানুষ ও অন্যান্য জীবের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে নানারকম দুরারোগ্য ব্যাধি সৃষ্টি করে। এছাড়া এসব প্লাস্টিক ন্যানো কণা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মানুষ ও অন্যান্য জীবের কোষাভ্যন্তরে অবস্থিত ডিএনএ ও আরএনএ অণুর মধ্যে পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যানসার বা স্নায়ুতন্ত্র বিকল করতে পারে।

বাংলাদেশে প্রতিদিন আট লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার মধ্যে ৩৬ শতাংশ পুনর্চক্রায়ণ, ৩৯ শতাংশ ভূমি ভরাট এবং বাকি ২৫ শতাংশ সরাসরি পরিবেশে দূষক হিসাবে যোগ হচ্ছে। প্লাস্টিকের দ্রব্যাদি মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি (পেট্রোলিয়াম অয়েল) থেকে পলিমার হিসাবে তৈরি করা হয়। তবে প্রস্তুতকালে নানারকম সংযোজনকারী জৈব যৌগ যুক্ত করা হয়। পরিবেশে প্লাস্টিক বর্জ্য নানারকম মারাত্মক বিপজ্জনক জৈব যৌগ নিঃসরণ করে। এর মধ্যে বিসফেনল-এ, ফথেলেটস, বিসফেনোন, অর্গানোটিনস, পার ও পলি ফ্লোরোঅ্যালকাইল পদার্থ এবং ব্রোমিনেটেড ফেইম রিটারডেন্টস উল্লেখযোগ্য। এসব রাসায়নিক পদার্থ মানুষসহ বিভিন্ন জীবের হরমোনাল সিস্টেম নষ্ট করে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য নিঃসৃত এসব রাসায়নিক পদার্থ স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নানা রোগ সৃষ্টি করতে পারে। ন্যানো প্লাস্টিক বর্জ্য এবং প্লাস্টিক বর্জ্য নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থ জীবের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটাতে পারে এবং ক্যানসারসহ নানা দুরারোগ্য ব্যাধির কারণ হতে পারে।

প্লাস্টিক বর্জ্য পোড়ানোর ফলে ২০১৯ সালে বায়ুমণ্ডলে ৮ দশমিক ৫ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড যোগ হয়েছে। এক হিসেবে দেখা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ১০-১৩ শতাংশ ঘটছে প্লাস্টিক বর্জ্য পোড়ানোর মাধ্যমে। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯ শতাংশ নানাভাবে পরিবেশে জমা হয়ে মানব স্বাস্থ্যসহ প্রকৃতির অন্যান্য জীবের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৩৮১ কোটি টন প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ একবার ব্যবহারযোগ্য (সিঙ্গেল ইউজ)। শুধু শতকরা ৯ ভাগ পুনর্ব্যবহার করা হয়।

বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৩১ সাল নাগাদ পৃথিবীতে প্লাস্টিকের দ্রব্য উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হবে। প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে সামুদ্রিক প্রতিবেশ। প্লাস্টিক দূষণের ফলে প্রতি বছর ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি এবং এক লাখ সামুদ্রিক প্রাণী মৃত্যুবরণ করে। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, বর্তমানে সমুদ্রে ৫ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন মাইক্রো ও ম্যাক্রো প্লাস্টিকের কণা জমা হয়েছে। প্রতি বর্গমাইল সমুদ্রে ৪৬ হাজার টুকরা/কণা প্লাস্টিক জমা হয়েছে। সমুদ্রে জমাকৃত প্লাস্টিকের মোট ওজন দুই লাখ ৬৯ হাজার টন। প্রতিদিন ৮০ লাখ টুকরো প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে পতিত হচ্ছে। এভাবে জমতে জমতে বড় বড় মহাসাগরে প্লাস্টিক বর্জ্য জমাকৃত এলাকা (প্যাঁচ) তৈরি হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে বর্তমানে প্লাস্টিক বর্জ্যরে প্যাঁচের আয়তন প্রায় ১৬ লাখ বর্গকিলোমিটার। অনুরূপ প্লাস্টিক বর্জ্য জমাকৃত এলাকা অন্যান্য মহাসাগর ও সাগরেও সৃষ্টি হয়েছে। শুধু সমুদ্রের তলদেশ নয়, সমুদ্রের পানির উপরিস্তরের প্রায় ৮৮ শতাংশ কমবেশি প্লাস্টিক দূষণে দূষিত। প্লাস্টিক বর্জ্যরে মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি করছে প্লাস্টিক ব্যাগ বা পলিথিন ব্যাগ। প্রতি মিনিটে ১০ লাখ প্লাস্টিক ব্যাগ আমরা ব্যবহারের পর ফেলে দিচ্ছি। প্রতি বছর ৮৩০ কোটি প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্লাস্টিকের টুকরো আমরা অসচেতনভাবে সমুদ্রসৈকতে ফেলে আসছি। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৫ সালে সমুদ্রে মাছের সংখ্যার চেয়ে প্লাস্টিকের দ্রব্য ও কণার সংখ্যা বেশি হবে। বর্তমানে সমুদ্র থেকে আহরিত প্রতি তিনটি মাছের একটির পেটে প্লাস্টিকের দ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে। প্লাস্টিকের দ্রব্যের মধ্যে মাইক্রোবিডস থাকে, যা সহজেই পরিবেশ দূষণ করতে পারে।

প্লাস্টিক দূষণ বিশ্বব্যাপী এক জটিল সমস্যা; যা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট হুমকি। পরিবেশকে বিপন্নকারী পৃথিবীর ৫১ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে শুধু এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে যোগ হচ্ছে, যা সব ধরনের বর্জ্যের ৮ শতাংশ।

আমাদের ব্যবহার্য যে দ্রব্যটি পরিবেশ দূষণের পেছনে অন্যতম বড় অবদান রাখছে তা হলো  প্লাস্টিক।আমরা প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক ব্যবহার করছি এবং পরিবেশকে দূষিত করছি।

সত্যি কথা বলতে প্লাস্টিক দ্রব্যের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন কাজে এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, বেশিরভাগ মানুষের কাছেই প্লাস্টিক দ্রব্য ছাড়া জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব মনে হতে পারে। সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর মুখে দেয়া চুষনি, দুধের বোতল থেকে শুরু করে আমাদের দৈনন্দিন খাবার প্লেট, জগ, গ্লাস, থালা, বাটিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় জিনিসই তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়ে। কিন্তু এই প্লাস্টিক পরিবেশের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা কি আমরা ভেবে দেখেছি?

তাই পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে প্লাস্টিক দ্রব্য ব্যবহার কমিয়ে আনার ব্যাপারে সবাইকে তৎপর হতে হবে এবং ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য যত্রতত্র না ফেলে এগুলো নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। আমাদের সবার এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন যে, আমরা যত দ্রুত প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার থেকে নিজেদের বিরত রাখব, তত দ্রুত প্লাস্টিক-দূষিত পরিবেশ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারব।

চলুন প্লাস্টিক এড়ানোর কয়েকটি উপায় জানা যাক:

প্রাথমিকভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা। প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশের সাথে সহজে মিশে যায় এমন দ্রব্য যেমন, কাঁচ, অ্যালুমিনিয়াম, কাগজ, পাট, বাঁশ ও কাপড় দিয়ে প্যাকেজিং তৈরি করা। পচনশীল ময়লা ফেলার আগে প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী আলাদা করে ফেলা। রিসাইকেল করার কোনও উপায় না থাকলে তা পুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলা।

বেলুন

বেলুন পচনশীল না। এগুলো প্রাণিদেহের ক্ষতি এবং মাটির সাথে মিশে খাদ্য গুণাগুণ নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু শিশুদের কাছে বেলুন খুবই আকর্ষণীয় একটি বস্তু। তাছাড়া জন্মদিন বা কোনো অনুষ্ঠানে বেলুন না হলে যেনো চলেই না। কিন্তু বেলুনের পরিবর্তে কাগজের তৈরি পম্পম ব্যবহার করা যায়। পম্পম দিয়ে ঘর সাজালে তা যেমন ঘরের সৌন্দর্য্য রক্ষা করবে তেমনি পরিবেশবান্ধবও হবে।

 ঝুড়ি

আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে ঝুড়ি ব্যবহার করতে হবে। তা নাহলে এই ময়লাগুলোকে নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে স্তূপাকারে জমা করা হয়। যা নদীর পানি, মাছ সবকিছুকে নষ্ট করে দেয়। ঢাকার খাল-বিলের দিকে তাকালে দেখা যায় বর্জ্যের ভিড়ে কীভাবে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হওয়ার পথে।

নদীতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকা

নদী, পুকুরে, খালে ইচ্ছেমত ময়লা ফেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। কারণ এগুলো পানি দূষণ করে এবং মাছগুলো মরে যায়। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বিশ্বের অর্ধেক জায়গাতেই সমুদ্রের বাসকারী কচ্ছপেরা মারা যায় এইসব প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে। 

ক্লাব কর্মসুচি

স্কুলগুলোতে এই পরিবেশ বান্ধব বিভিন্ন ক্লাব খোলা যেতে পারে। যেখানে পরিবেশ রক্ষা সপ্তাহ, মিটিং, মেলার মতো কর্মসূচি থাকবে। এতে শিশুদের মাঝে সচেতনতা বাড়বে, তারা দায়িত্বশীল এবং যত্নবান হবে পরিবেশের প্রতি।

এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি

নিজ নিজ এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। প্রতিটি বাড়ি থেকে প্লাস্টিক দ্রব্য অপসারণ, প্লাস্টিকের বদলে পরিবেশবান্ধব অন্যকিছু ব্যবহারে পরামর্শ প্রদান, ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরা এভাবে জনসচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।

পুনরায় ব্যবহারযোগ্য দ্রব্য

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকানরা তাদের আবর্জনার মাত্র ৩৫% পুনরায় ব্যবহার করতে পারে। কীভাবে এগুলোকে ব্যবহার করা যায় বা কোন দ্রব্যগুলো পুনব্যবহারযোগ্য তা জেনে ব্যবহার করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকানরা দিনে ৫০ কোটি প্লাস্টিক স্ট্র ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে কোনো ধাতুর তৈরি বা কাগজের স্ট্র ব্যবহার করা যায়। শিশুদের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার খেলনা। কিন্তু এই প্লাস্টিকের তৈরি খেলনাগুলোই যে আমাদের জন্য হুমকি! তাই এমন খেলনা দেয়া যেতে পারে যাতে শিশু খুশিও থাকে আবার পরিবেশবান্ধবও হয়। যেমন, কোনো কুপন, কার্ড, ঘরে তৈরি কোনো উপহার দেয়া যেতে পারে। 

প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে সামুদ্রিক প্রতিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। ফলে মৎস্য, তিমি এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণির মৃত্যু সামগ্রিকভাবে সামুদ্রিক প্রতিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমাদের পানীয় জলের শতকরা ৮০ ভাগ মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা দ্বারা দূষিত। এসব অদৃশ্য প্লাস্টিকের কণা ও হরমোনাল সিস্টেমের প্রভাবকারী প্লাস্টিক নিঃসৃত বিষাক্ত দ্রব্যাদি খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানব স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

লেখক: মোঃ রাজিব হোসেন

চেয়ারম্যান, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।