১১৭ বছরে পা রাখছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা

চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের দীর্ঘ ঐতিহ্যের স্মারক ‘আবদুল জব্বারের বলীখেলা’ ১১৭ বছরে পদার্পণ করছে। আগামী শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে বীরত্বের এই লড়াই। বলীখেলা ও এর অনুষঙ্গ তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ঘিরে ইতিমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে বন্দরনগরীতে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলীখেলার সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মেয়র জানান, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দেশের যুবকদের শারীরিকভাবে সক্ষম করে গড়ে তুলতে আবদুল জব্বার সওদাগর যে খেলার সূচনা করেছিলেন, তা আজ চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এবারের আসরকে স্মরণীয় করে রাখতে লালদীঘি চত্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আবদুল জব্বার চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া লালদীঘির পাড়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ত্রিভুজাকৃতি টেরাকোটা ম্যুরাল স্থাপন করেছে চসিক, যেখানে বলীদের লড়াইয়ের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে মেয়র এই ম্যুরালটি উদ্বোধন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৪ এপ্রিল থেকে লালদীঘি ঘিরে বৈশাখী মেলা শুরু হবে। তবে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মেলার সময় কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। আগামী ২৬ এপ্রিল (রোববার) ভোরের মধ্যেই মেলা প্রাঙ্গণ পরিষ্কার ও আয়োজন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবারের বলীখেলার উদ্বোধন করবেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
মেলা ও বলীখেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ড্রোন নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের পাশাপাশি মাঠে থাকবে সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট। দর্শকদের সুবিধার্থে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা আবদুল জব্বারের নাতি ও কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















