সিগারেটের প্যাকেটে থাকবে কিউআর কোড, কর ফাঁকি ধরলেই মিলবে পুরস্কার

অবৈধ ও কর ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে প্রতিটি দেশি সিগারেটের প্যাকেটে বিশেষ ‘কিউআর’ (QR) বা ‘এয়ার কোড’ থাকবে। কোনো ভোক্তা যদি এই কোডের মাধ্যমে কর ফাঁকি শনাক্ত করে সরকারকে তথ্য দেন, তবে তাকে বড় অংকের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে তামাক খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, সিগারেটের প্যাকেটের প্রচলিত ট্যাক্স স্ট্যাম্প ব্যবস্থাকে আরও অত্যাধুনিক করা হচ্ছে। এর রঙ ও আঠা (গ্লু টেকনোলজি) এমনভাবে পরিবর্তন করা হবে যেন তা একবারের বেশি ব্যবহার করা না যায়। প্যাকেটের গায়ে থাকা ‘অটোমেটেড কিউআর কোড’ যে কেউ স্মার্টফোনের মাধ্যমে যাচাই করতে পারবেন। স্ক্যান করার পর যদি দেখা যায় ওই পণ্যটি থেকে সরকার সঠিক রাজস্ব পায়নি বা এটি অবৈধ, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো যাবে।
আবদুর রহমান খান বলেন, “যারা কিউআর কোড যাচাই করে কর ফাঁকির বিষয়টি আমাদের ধরিয়ে দেবেন, তাদের জন্য আমরা বড় আকারের পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখব। অন্যদিকে, যারা অবৈধ সিগারেট বাজারজাত করবে, তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারখানা থেকে পণ্য বের হওয়া থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি প্যাকেট ট্র্যাক করা হবে।”
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে সিগারেটের ওপর থাকা ৮৩ শতাংশ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জের হার আর বাড়ানো হবে না। তবে খরচ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সিগারেটের খুচরা মূল্য বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দাম কতটা বাড়ানো যায়, তা নিয়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলাপ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আলোচনায় তামাক কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা সিগারেটের বর্তমান ‘শতাংশের কর’ ব্যবস্থা থেকে সরে এসে একটি ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ’ বা ফিক্সড কর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন।

















