সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের নিয়ন্ত্রণ নয়, বড় কোম্পানিগুলোকে আটতে চায় এস্তোনিয়া

ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে, কোনো কোনো দেশ নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে। তবে উল্টো পথে হাঁটতে চায় এস্তোনিয়া।
দেশটি বলেছে, কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং প্রয়োজন বিভিন্ন বড় কোম্পানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা।
শুক্রবার এস্তোনিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টিনা কাল্লাস বলেছেন, ‘এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসলে ‘সমস্যার কোনো প্রকৃত সমাধান দেবে না’। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শিশুরা যে কোনভাবেই হোক তা ব্যবহারের পথ খুঁজে বের করবেই।’
প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, মেটার মতো কোম্পানিগুলো বিষয়টিকে নেহাত এক বানানো গল্প বলে প্রচার করতে পছন্দ করলেও শিশুদের ওপর সামাজিক মাধ্যমের আসক্তির নেতিবাচক প্রভাব এখন বেশ স্পষ্ট।
বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে আসক্তির ফলে শিশুদের মধ্যে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ থেকে শুরু করে ঘুমের অভাব ও স্থূলতার মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে স্থূলতার মূল কারণ হচ্ছে, জাঙ্ক ফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের বারবার দেখানো বিভিন্ন বিজ্ঞাপন। তবে এর উল্টো দিকও আছে, টিনএজাররা সামাজিক মাধ্যমের ফলে নিজেদের পছন্দের কমিউনিটি বা দল খুঁজে পায় এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থনও পেতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে বিশ্বের অনেক দেশই এখন শিশুদের জন্য তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
বয়সের সীমা দেশভেদে ভিন্ন হলেও অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলো এরইমধ্যে এ ধরনের আইন করার প্রস্তাব দিয়েছে বা কার্যকর করেছে।
তবে এস্তোনিয়ার শিক্ষামন্ত্রী কাল্লাসের ধারণা, এসব দেশ বাস্তব এক সমস্যা সমাধানে ভুলপথে চেষ্টা করছে।
বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত এক ফোরামে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে এ সমস্যার সমাধানের পথ এমন নয় যে, আমরা শিশুদের ওপর দায় চাপিয়ে দেব ও তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে বলব। শিশুরা খুব দ্রুতই এসব নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামজিক মাধ্যম ব্যবহারের পথ খুঁজে বের করে ফেলবে।’
এর বদলে তিনি মনে করেন, এর দায়ভার সরকার ও বড় বিভিন্ন কোম্পানির ওপর বর্তায়। বড় আমেরিকান ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানির প্রসঙ্গ যখন আসে তখন ইউরোপ এমন ভান করে যেন তারা খুব দুর্বল।
বিষয়টিকে ‘ছলনা’ হিসেবে বর্ণনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে কাল্লাস বলেছেন, ইইউ’র উচিত নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এসব আমেরিকান কোম্পানিকে সত্যিকার অর্থে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা।
বিশ্বের অন্য যে কোনো জায়গার তুলনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রযুক্তি শিল্পকে অনেক বেশি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের বিষয়ে এস্তোনিয়ার শিক্ষামন্ত্রীর যুক্তিটিও বেশ জোরালো।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আরেকটি যুক্তি হচ্ছে, জনহিতকর উদ্দেশ্যে নেওয়া এসব পদক্ষেপ খুব সহজেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার পথে চলে যেতে পারে।
যেমন, ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স ইঙ্গিত দিয়েছিল, ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পর পরবর্তী যৌক্তিক পদক্ষেপ হবে ভিপিএনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
একবার কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তা কার্যকর করারও প্রয়োজন পড়ে। আর তা করতে গিয়ে শিশুরা যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাধা টপকাতে পারে সেগুলোকেও বন্ধ করার প্রয়োজন দেখা দেবে।

















