সাধারণরা নয়, ঈদে কর্মকর্তারা পাবেন নতুন নোট

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য এবার নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে জনসাধারণের জন্য এই সুযোগ বন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিপুল পরিমাণ নতুন নোটের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গত ৩ মার্চ জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশের ভিত্তিতে গত রোববার থেকে ব্যাংকের কর্মীরা নতুন নোট সংগ্রহ শুরু করেছেন, যা নিয়ে খোদ প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা অনুসারে নতুন নোট নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকরা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট নিতে পারবেন। অন্যদিকে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সাধারণ কর্মচারীদের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকা। আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই নতুন নোট সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।
প্রতিবছর ঈদের সময় নতুন টাকার নোটের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়, বিশেষ করে ঈদ সালামি হিসেবে নতুন নোট দেওয়ার একটি সামাজিক প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ যেমন বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি এক ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেওয়া এই বিশাল অংকের নতুন নোটের একটি অংশ অনিয়মের মাধ্যমে রাজধানীর মতিঝিল বা গুলিস্তানের ফুটপাতের নতুন নোট ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যেতে পারে। এতে অবৈধ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে চড়া মূল্যে নতুন নোট কিনতে বাধ্য হতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

















