সব ম্যাচ হেরেও অনেক কিছু নিয়ে ফিরছে আফঈদারা

এশিয়ার সেরা মঞ্চে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অংশগ্রহণ সুখকর হলো না। কোনো পয়েন্ট, এমনকি কোনো গোল ছাড়াই শেষ হয়েছে তাদের মিশন।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এবারের এএফসি নারী এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই হেরে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের। পার্থের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৪–০ গোলে হেরেছে তারা।
এমন হতাশাজনক ফলাফল হলেও এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় খেলার অভিজ্ঞতা দেশের নারী ফুটবলের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১২ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ছিল র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে নিচের দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১০০–এর বাইরে থাকা একমাত্র দলও ছিল বাংলাদেশ। এমনকি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংধারী ইরান নারী ফুটবল দলও বাংলাদেশের চেয়ে ৪৪ ধাপ এগিয়ে।
গ্রুপের শক্তিশালী দল চীন নারী ফুটবল দল ও উত্তর কোরিয়া নারী ফুটবল দলের কাছে যথাক্রমে ৩–০ ও ৫–০ গোলে হারটা স্বাভাবিক ছিল। তবে প্রত্যাশা ছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে অন্তত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে বাংলাদেশ। গত বছর বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিয়ানমার নারী ফুটবল দলের বিপক্ষে জোর প্রতিরোধ করেছিল বাংলাদেশ।
পার্থের পার্থ রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে গতকালের ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হতো বাংলাদেশের। খুলতে পারতো অলিম্পিক বাছাইপর্ব ও ২০২৭ ফিফা নারী বিশ্বকাপের পথ।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের এখনও নানা সীমাবদ্ধতা। অবকাঠামো, ঘরোয়া লিগ, অনুশীলন সুবিধা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে। উজবেকিস্তানের সুবিধা–সুবিধার সঙ্গে তুলনা টেনে ম্যাচ শেষে কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দল টিভি ক্যামেরা ও ভিডিও সরঞ্জাম নিয়ে আসে, যা আমাদের কাছে বিলাসিতা। অনেক সময় মনে হয় যেন এক হাত বাঁধা অবস্থায় রিংয়ে নামা কোনো বক্সারের মতো লড়ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এএফসি পর্যায়ে এমন সব দলের মুখোমুখি হতে হয় যারা শারীরিক ও প্রস্তুতির দিক থেকে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো অনুশীলন মাঠ নেই। উন্নয়নের জন্য এটি বড় বাধা।’
‘মেয়েদের জন্য আমার কেবল প্রশংসাই আছে। তারা অনেক দূর এগিয়েছে। তাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে এবং তারা যা অর্জন করেছে তাতে আমি খুব গর্বিত,’ বলেন বাটলার।
তবুও এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেওয়াটাই দেশের নারী ফুটবলের বড় মাইলফলক। এর আগে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ২০২২ ও ২০২৪ সালে শিরোপা জিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিজেদের আধিপত্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
এই অংশগ্রহণকে এককালীন সাফল্য হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সে জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মত দিচ্ছেন তারা।

















