শপথ নিলেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ঘনঘন সরকার পরিবর্তনের অচলাবস্থা ভেঙে নেপালে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আজ নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা জনপ্রিয় নেতা বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)।
নেপালে রাজতন্ত্র পরবর্তী ১৮ বছরে যেখানে ১৪ জন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা অদলবদল করেছেন, সেখানে কাঠমান্ডুর সাবেক এই মেয়রের হাত ধরে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে হিমালয় কন্যা নেপাল। মাত্র চার বছর আগে গঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এবারের নির্বাচনে ১৬৫টি সরাসরি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে জয়লাভ করে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
বালেন্দ্র শাহের এই বিজয়কে বিশ্লেষকরা প্রবীণ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের বিপ্লব হিসেবে দেখছেন। তিনি অভিজ্ঞ নেতা কেপি শর্মা অলিকে তাঁর দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে পরাজিত করে প্রধানমন্ত্রীত্ব নিশ্চিত করেছেন। তবে এই বিশাল ম্যান্ডেটের সাথে সাথে বালেন শাহের সামনে রয়েছে পাহাড়সমান চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিষ্ণু সাপকোটা মনে করেন, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার জন্য সুযোগ হলেও সাধারণ মানুষের সব প্রত্যাশা দ্রুত পূরণ করা কঠিন হবে। বিশেষ করে, গত বছরের আন্দোলনের সময় হওয়া হত্যাকাণ্ড ও সম্পত্তি ধ্বংসের তদন্তে গঠিত ‘কারকি কমিশন’-এর সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে তাঁর সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা।
সরকারের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর মধ্যেও চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আরএসপি প্রতিষ্ঠাতা রবি লামিচানকে নিয়ে বিতর্ক এবং বালেন্দ্র শাহের সাথে তাঁর ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম ১০০ দিনেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পদের তদন্তসহ কঠোর দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, সংসদে বিরোধী দল দুর্বল থাকায় আন্দোলনের নেত্রী ইউজন রাজভাণ্ডারী সতর্ক করেছেন যে, সরকার ভুল করলে রাজপথই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বালেন্দ্র শাহের অভিষেক বেশ ইতিবাচকভাবে শুরু হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বালেন শাহের কোনো রাজনৈতিক পিছুটান না থাকায় নেপাল এখন আরও স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণে সুবিধা পাবে। তবে প্রফেসর মাল্লা মনে করেন, জাতীয় নেতা হিসেবে সফল হতে হলে এখন বালেন শাহকে গণমাধ্যম ও জনগণের সাথে যোগাযোগ এবং দায়বদ্ধতার বিষয়ে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে।

















