যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে একটি পিৎজার দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির নাম মো. রাজু (৪৪)।নিহত রাজুর বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়। তার স্ত্রী-সন্তান দেশেই থাকেন বলে জানান স্বজনেরা।
এ ঘটনায় রাসেল নামের ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পিৎজার দোকানটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন।
গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রিসিংক্ট ৭৩ এলাকার রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউর আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ১২টা ১ মিনিটে নিউইয়র্ক নগর পুলিশ বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে তাদের ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়া হলে বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়া রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
নিহত রাজুর সহকর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি দোকানে ঢুকে কোনো কিছু না বলে সরাসরি আমাকে গুলি করে। আমার ঊরুতে গুলি লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত রাজুকেও ওই ব্যক্তি গুলি করে। তার বুকে গুলি লাগে। ওই পিৎজার দোকানটি রাজুর এক বন্ধুর মালিকানাধীন। রাজুই দোকানটি নিজের মতো দেখভাল করতেন।’
দোকানের মালিক আবদুল জলিল বলেন, ‘রাজু আমার বন্ধু। আমার দোকানটা তিনি নিজের মতো করে আগলে রাখতেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। রাজুর স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান দেশে থাকে।’
জলিল বলেন, ‘তিন বছর আগে রাজু যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এখানে তার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সোসাইটিসহ অন্য সমিতিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা আশা করছি।’
হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বন্দুকধারী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অভিবাসীরা।