যিশুখ্রিষ্টের অনুসারী যুদ্ধবাজদের পক্ষে থাকতে পারেন না: পোপ

সামরিক শক্তি কখনোই প্রকৃত শান্তি বা স্বাধীনতা বয়ে আনতে পারে না—এমন কড়া বার্তায় ইরান-ইসরাইল সংঘাতের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ঈশ্বর কোনো সংঘাতকে আশীর্বাদ করেন না। যারা একসময় তলোয়ার চালিয়েছে এবং আজ বোমা ফেলছে, যিশুখ্রিষ্টের কোনো অনুসারী কখনোই তাদের পক্ষে থাকতে পারেন না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
পোপের এই বার্তা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক ধর্মীয় যুক্তিনির্ভর অবস্থানের সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে খ্রিষ্টান দাবি করে একাধিকবার যুদ্ধের পক্ষে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইরান যুদ্ধকে ‘ঈশ্বরের সমর্থনপুষ্ট’ বলে দাবি করেন। শুধু ট্রাম্পই নন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এই যুদ্ধকে ‘ঐশ্বরিক অনুমোদনপ্রাপ্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এমনকি পেন্টাগনের এক অনুষ্ঠানে শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘চরম সহিংসতা’ প্রদর্শনের প্রার্থনা করে তিনি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। হেগসেথের মতে, মার্কিন বাহিনী যা করছে তা ঈশ্বরের অভিপ্রায় এবং তিনি নিয়মিত এর পক্ষে প্রার্থনা করেন।
পোপ লিও এই ধরনের অবস্থানকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যুদ্ধের সাফাই গাইতে ঈশ্বরকে ব্যবহার করা ঘোরতর অন্যায়। হাজারো মানুষের সামনে এক গণপ্রার্থনায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঈশ্বর যুদ্ধবাজদের প্রার্থনা শোনেন না, বরং তা প্রত্যাখ্যান করেন। পোপের মতে, শান্তি কেবল ধৈর্যশীল সহাবস্থান ও সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কেবল ঘৃণাকে উসকে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব নেতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বর্তমানে ইরান যুদ্ধে সাময়িক বিরতি চললেও ধর্মীয় আবরণে যুদ্ধের এই পাল্টাপাল্টি বয়ান বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

















