মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১৩৩ অবৈধ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের বালাকং এবং শাহ আলম শিল্প এলাকায় এক সমন্বিত অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৩৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে অভিবাসন বিভাগ, কাস্টমস, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং শ্রম বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার মোট ১৪৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। মূলত কুয়ালালামপুর ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে অবৈধ শ্রম ও নিয়োগকর্তাদের আইন অমান্য করার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালীন মোট ১৬২ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়, যার মধ্যে অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে ১৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যায় রয়েছেন বাংলাদেশী নাগরিক, যার সংখ্যা ৬৫ জন। এছাড়া পাকিস্তানের ১৮ জন, মিয়ানমারের ১৭ জন, নেপালের ১৫ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১১ জন এবং ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের কয়েকজন নাগরিক রয়েছেন। আটককৃতদের বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এবং তাদের অধিকাংশই পুরুষ বলে জানা গেছে।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, মেয়াদের অতিরিক্ত অবস্থান এবং অননুমোদিত কার্ড ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস বিভাগ শ্রমিকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ শুল্কবিহীন মদ ও সিগারেটও জব্দ করেছে। বর্তমানে আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার জন্য অভিবাসন আটক কেন্দ্রে (ডিপো) স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
জাকারিয়া শাবান অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ বা আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি একে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ সময় তিনি ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এর কথা উল্লেখ করে মনে করিয়ে দেন যে, এই সুযোগ আগামী এপ্রিল ২০২৬-এ শেষ হতে যাচ্ছে। যারা বর্তমানে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের এই সময়ের মধ্যে সুযোগ গ্রহণ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

















