মাঠ ভরা ধান কিন্তু পকেটে টাকা নেই, শ্রমিক সংকটে চাষিরা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসির বদলে দেখা দিয়েছে গভীর দুশ্চিন্তার ছাপ। মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানে ভরে উঠলেও তা ঘরে তোলা নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। প্রয়োজনীয় শ্রমিকের অভাব এবং বাজারে ধানের অস্বাভাবিক কম দামের কারণে ফসল কাটার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বর্তমানে এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বাজারে প্রতি মণ ধান ৭শ থেকে ৮শ টাকায় বিক্রি হলেও একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১১শ থেকে ১২শ টাকা। অর্থাৎ দেড় মণ ধান বিক্রি করলে তবেই একজন শ্রমিকের একদিনের পারিশ্রমিক মিলছে। এই অসম সমীকরণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ চাষিরা।
যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল মিলছে না উপজেলার একমাত্র পাম্পটিতে। কৃষি অফিস থেকে তেলের কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হলেও পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে মিলছে না প্রয়োজনীয় জ্বালানি। ফলে তেলের অভাবে অনেক জায়গায় ধান কাটার মেশিনগুলো বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।
দুর্গাপুর ও শ্যামপাড়া গ্রামের কৃষকরা জানান, অনেকেই ব্যাংক, এনজিও কিংবা দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বোরো আবাদ করেছেন। এখন বাম্পার ফলন সত্ত্বেও শ্রমিকের উচ্চ মজুরি ও ধান বিক্রিতে লোকসানের আশঙ্কায় আসল টাকা ঘরে তোলা নিয়ে তারা শঙ্কিত। বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই ধান ঘরে তুলতে না পারলে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।
উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত-আল-মারুফ জানান, চলতি মৌসুমে চিতলমারীতে ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ফলন খুবই ভালো। তবে এলাকাটিতে তেলের পাম্প মাত্র একটি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ঘোষিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান কেনা শুরু হলে কৃষকরা এই আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

















