মাজারের দিঘিতে জীবিত প্রাণী ফেলা নিষিদ্ধ করলেন জেলা প্রশাসক

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের খাবার হিসেবে মুরগিসহ যেকোনো জীবিত প্রাণী ফেলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ শনিবার জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
সম্প্রতি দিঘির পাড়ে একটি কুকুরকে কুমির ধরে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হলে আজ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির কাজ পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মাজারের খাদেম ও সংশ্লিষ্টদের এই কঠোর নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “মাজারের দিঘিতে কখনো কুমিরকে কুকুর খেতে দেওয়া হয় না। তবে অনেক সময় ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মানত হিসেবে জীবিত মুরগি কুমিরের উদ্দেশ্যে দিঘিতে ছুড়ে দেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রাণী নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পড়ে। তাই এখন থেকে দিঘির পানিতে কোনো ধরনের জীবিত প্রাণী ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খাদেম ও নিরাপত্তাপ্রহরীদের এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, কুকুরটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে আজ সেটির মৃতদেহ তুলে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী কুকুরটি তাড় খেয়ে নিজে থেকেই পানিতে পড়েছিল নাকি কেউ তাকে পরিকল্পিতভাবে ফেলেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাজার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় অপপ্রচার রোধে ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জেলা প্রশাসন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে।

















