‘ভোট চুরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিসিবির অর্থ ও জনবল’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ ও জনবল ব্যবহার করে অতীতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং ভোটাধিকার হরণে সহায়তার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিসিবির অতীত কার্যক্রম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৮ সাল থেকে বিসিবিতে অতিরিক্ত রাজনীতিকরণ ও দলীয়করণের ফলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “বিসিবির সম্পদ ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠীর ভোট চুরিতে সহায়তা করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।”
সম্পদের হিসাব ও দুর্নীতি তদন্ত বিসিবির ভেতরে জেঁকে বসা দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানান আমিনুল হক। তিনি উল্লেখ করেন, বোর্ডের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের চিহ্নিত করতে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচন নিয়ে ১৫ দিনের সময়সীমা গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন নিয়ে চলমান তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্ত কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তের স্বার্থে বোর্ডের বেশ কয়েকজন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা ক্রীড়াঙ্গনকে একটি স্বচ্ছ ও পেশাদার জায়গায় ফিরিয়ে নিতে চাই। যারা অনিয়মের মাধ্যমে বোর্ডকে কলঙ্কিত করেছেন, তাদের প্রত্যেককে জাতির সামনে জবাবদিহি করতে হবে।”

















