ভিয়েতনামে হার ভুলে সিঙ্গাপুর জয়ে বাংলাদেশের চোখ

হ্যানয়ের মাঠে প্রীতি ম্যাচে ভিয়েতনামের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারলেও ভেঙে পড়ছে না বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বরং সেই হারের তিক্ততা ভুলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সবটুকু মনোযোগ এখন আগামী ৩১ মার্চের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের সেই লড়াইয়ে শক্তিশালী সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো। র্যাঙ্কিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের গতির কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে রক্ষণভাগ। মাত্র ৮ মিনিটে একটি আত্মঘাতী গোল হজম করার পর ১৮ ও ৩৮ মিনিটে আরও দুই গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়াই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় জামাল ভূঁইয়াদের।
তবে বিরতির পর বাংলাদেশ দল যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে, সেটিই এখন অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে কোচ কাবরেরাকে। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়া ও শেখ মোরসালিনের মাঠে নামার পর খেলায় ভারসাম্য ফেরে। রক্ষণভাগ ছিল দুর্দান্ত, যার ফলে ভিয়েতনাম আর কোনো গোল করতে পারেনি। এই স্থিতিশীলতাকেই সিঙ্গাপুর ম্যাচের শক্তি হিসেবে দেখছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপে বর্তমানে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে সিঙ্গাপুর। ৮ পয়েন্ট নিয়ে হংকং দ্বিতীয় এবং ৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আছে তৃতীয় অবস্থানে। ৩১ মার্চের ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারলে গ্রুপ টেবিলে বড় লাফ দেওয়ার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে। বিশেষ করে গত নভেম্বরে শক্তিশালী ভারতকে ১-০ গোলে হারানোর স্মৃতি এখনও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ভিয়েতনাম ম্যাচটি ছিল মূলত সিঙ্গাপুর ম্যাচের একটি ‘ওয়ার্ম-আপ’। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা এই ম্যাচে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। হামজা দেওয়ান চৌধুরী, শমিত সোম ও জায়ান আহমেদদের নিয়ে গড়া শুরুর একাদশ প্রথমার্ধে খেই হারালেও দ্বিতীয়ার্ধের বদলি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স তাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মূল ম্যাচে জামাল ও মোরসালিনকে শুরু থেকেই একাদশে দেখা যেতে পারে।
আপাতত ভিয়েতনামের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পূর্ণ পয়েন্টের লক্ষ্যেই ছক কষছে বাংলাদেশ দল।

















