ভারতে ইলিশ যাবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী

আসন্ন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবেশী দেশ ভারতে ‘সৌজন্য উপহার’ হিসেবে ইলিশ পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী দেশের মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং ভারতের ইলিশ ইস্যু নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
ভারতে ইলিশ পাঠানো সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “সরকার বাণিজ্যিকভাবে কোনো ইলিশ রপ্তানি করে না। ভারতে সাধারণত যা পাঠানো হয়, তা বিশেষ দিবসে সৌজন্যমূলক উপহার হিসেবে গণ্য। এবার পহেলা বৈশাখে এই উপহার পাঠানো হবে কি না, তা সরকার প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সিদ্ধান্ত দেবেন।”
তিনি আরও জানান, দেশের মানুষের চাহিদা মেটানো এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। ইলিশের সরবরাহ বাড়লে বাজারে এর দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’, যা চলবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশের ২০টি জেলায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই সপ্তাহ পালন করা হবে। আগামীকাল চাঁদপুরে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর শুভ উদ্বোধন করা হবে।
মৎস্যমন্ত্রী জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জাটকা আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। দেশের সম্পদ রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। এই সপ্তাহ চলাকালীন সাগর থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার পর্যন্ত কঠোর নজরদারি চালানো হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জেলেদের সহায়তার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “জাটকা সংরক্ষণের সময়ে জেলেরা যাতে কষ্টে না থাকে, সেজন্য প্রয়োজনে তাদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। ২০টি জেলাতেই এই সহায়তা কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করা হবে।
সরকার আশা করছে, জাটকা সংরক্ষণের এই অভিযান সফল হলে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের পাতেও উঠবে জাতীয় মাছ ইলিশ—এমনটাই লক্ষ্য বর্তমান সরকারের।

















