বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দেশে প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘গ্লোবাল ট্রেন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (জিটিসিএফ) ২০২৬’। ৫ জুন ঢাকার আগারগাঁওয়ের জাতীয় গ্রন্হাগার মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করে জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশন।
চলচ্চিত্র, সংলাপ ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং তরুণদের সচেতন করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশিষ্ট অতিথি, চলচ্চিত্র নির্মাতা, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যুব নেতারা অংশ নেন।
উৎসবে আড়াই ঘণ্টার চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আখ্যানের পাশাপাশি স্থানীয় জলবায়ু ন্যায়বিচারের গল্প তুলে ধরা হয়। উৎসবের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিটিসিএফ ২০২৬-এর প্রধান সমন্বয়কারী খালেদ শামস। ড. শাহরিয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় জলবায়ু পরিবর্তনে গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় ও যুবসমাজের ভূমিকা নিয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন পরিচালক ফাবেহা মনির, ড. মো. মাহবুবুর রহমান এবং জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশনের সিইও মিস ফাতেমা ঝুমকি।
উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বাংলাদেশে প্রথম জলবায়ু বিষয়ক এই চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং এটিকে নিয়মিত আয়োজনে পরিণত করার আহ্বান জানান। একই সাথে জলবায়ু বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও এ ধরনের উৎসবের জন্য সরকারি অনুদানের আবেদন করতে আয়োজকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বিষয়টি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এবারের উৎসবে মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান ও ফাবেহা মনির পরিচালিত বাংলাদেশের ‘দ্য টেস্ট অফ হানি’ সেরা জুরি পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া সেরা জলবায়ু চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জেসন লিন্ডসের ‘ব্রেকিং আইস: দ্য মেকিং অফ ক্র্যাকস ইন দ্য আইস’ এবং সিঙ্গাপুরের এলেইন লিমের ‘দ্য গার্ল অ্যান্ড হার পিয়ানো’। নরওয়ের মিনেটা ওয়েস্টারলান্ডের ‘ক্রিস্টিন হারিলা x এএমএপি আর্কটিক ইয়ুথ এক্সপেডিশন’ চলচ্চিত্রটি পায় তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা পুরস্কার।
সমাপনী বক্তব্যে উৎসব পরিচালক এবং জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশনের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল আলম ঘোষণা করেন যে, এই আয়োজন দেশব্যাপী জলবায়ু আন্দোলনের সূচনা মাত্র। আগামী মাসগুলোতে এই উৎসব দেশের ৬৪টি জেলাতেই সম্প্রসারিত হবে এবং এর আওতায় তরুণদের প্রশিক্ষণ প্রদান, মাঠ পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং তৃণমূলের অভিজ্ঞতা নিয়ে নীতি নির্ধারণী গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে। ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং আগামী বছরের ‘জিটিসিএফ ২০২৭’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

















