বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ালো

ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালিটি সচল না হলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, চলমান সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এই দ্বিমুখী উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রোববার রাতে আন্তর্জাতিক বাজার খোলার পরপরই তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা দেয়। গ্রিনিচ মান সময় রাত ১০টায় লেনদেনের শুরুতেই:
ডব্লিউটিআই (WTI): মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মে মাসের ডেলিভারি মূল্য ১.৮% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩.৪৪ ডলারে গিয়ে ঠেকে।
যদিও প্রাথমিক এই ঊর্ধ্বগতির ৪৫ মিনিট পর বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে ডব্লিউটিআই ১০০ ডলারের নিচে এবং ব্রেন্ট ক্রুড ১১১ ডলারের আশেপাশে থিতু হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর আগে তেলের বাজার বর্তমানে তুলনায় অনেক শান্ত ছিল। হামলার আগের দিন ডব্লিউটিআই ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৭.০২ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুড ছিল ৭২.৪৮ ডলার। অর্থাৎ যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম প্রায় ৫০% এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ। এই পথ বন্ধ থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

















