পুলিশ পাহারায় শামিম পীরের দাফন সম্পন্ন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত ‘শামিমের দরবার শরিফ’-এর প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের (৬৫) দাফন পুলিশি পাহারায় সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল চারটায় পুলিশ পাহারায় মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে উৎসুক জনতার ভিড় তৈরি হয়। নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শামিমের মাথা, ঘাড় ও পিঠে গভীর ক্ষত ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ‘সত্যের সন্ধানে ফিলিপনগর’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে শামিমের একটি পুরনো ওরসের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য ছিল দাবি করে স্থানীয় কিছু মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উত্তাল জনতা ‘শামিমের দরবার শরিফে’ হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারটিতে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এসময় পীর শামিম ও তার ভক্তদের ওপর হামলা চালানো হলে শামিম গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত শামিমের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ছিল। ২০২১ সালে একই অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর তিনি পুনরায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন।
বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

















