পশ্চিমা বন্ধু দেশগুলোর ওপর বিরক্তি উগরে দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একের পর এক পোস্টের মাধ্যমে পশ্চিমা বন্ধু দেশগুলোর ওপর চরম বিরক্তি উগরে দিয়েছেন। বিশেষ করে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর প্রতি তার ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও অধৈর্যের ইঙ্গিত এখন স্পষ্ট। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক ফ্রন্টে ক্রমেই একা হয়ে পড়া ট্রাম্প এখন বন্ধুদের ওপর দায় চাপিয়ে এক বিপজ্জনক সামরিক অভিযানের উস্কানি দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি বন্ধু দেশকে হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে ‘জ্বালানি দখল’ করার পরামর্শ দেন। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “তোমাদের নিজেদের লড়াই এখন তোমাদেরই শিখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো সহায়তায় এগিয়ে আসবে না, যেমনটা তোমরা আমাদের পাশে ছিলে না।”
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে অন্যদের স্বার্থ রক্ষা করেছে, কিন্তু এখন থেকে প্রতিটি দেশকে নিজেদের প্রয়োজনে পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব বন্ধু দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেবে না, তাদের পরিণামের জন্য প্রস্তুত থাকারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয় যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে, সেখানে ইরানের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ট্রাম্প এখন চাচ্ছেন বন্ধু দেশগুলো যেন সেখানে গিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জ্বালানি স্থাপনা দখল করে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোদ মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোও যেখানে সরাসরি ইরানের সাথে এই ঝুঁকি নিতে সাহস দেখায়নি, সেখানে বন্ধুদের এমন পরামর্শ দেওয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়।
অন্য এক পোস্টে ট্রাম্প ফ্রান্সকে ‘অত্যন্ত অসহযোগিতামূলক’ দেশ হিসেবে আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করছেন, ইরানের সাথে ‘খুব ভালো’ আলোচনা চলছে, যদিও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি দেননি। ফলে আলোচনার ফলাফল কী হবে তা না জেনে ব্রিটেন বা ফ্রান্সের মতো বন্ধু দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে না। বন্ধুদের এই অনীহাই ট্রাম্পের বিরক্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে যদি কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তার বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ট্রাম্পের এমন অস্থির আচরণ এবং বন্ধু দেশগুলোর প্রতি আক্রমণাত্মক মনোভাব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। নিজের পরিকল্পনার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন না পেয়ে তিনি এখন সামাজিক মাধ্যমকেই ক্ষোভ প্রকাশের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি

















