নকল রুখতে মাউশির ‘মাস্টারপ্ল্যান’, মানতে হবে ১১ নির্দেশনা

আগামী ২১ এপ্রিল, মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। এই পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একটি বিশেষ ‘মাস্টারপ্ল্যান’ গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য ১১ দফা কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) মাউশি থেকে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এসব নিয়ম পালনে কোনো প্রকার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাউশির মাস্টারপ্ল্যানে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কড়া নজরদারির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র এবং কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা অকেজো রয়েছে, সেগুলো পরীক্ষার আগেই সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ধারণকৃত সব ভিডিও ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কক্ষে সাধারণ কাঁটাওয়ালা ঘড়ি টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় নিবিড়ভাবে দেহ তল্লাশি করতে হবে। নারী পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই মহিলা শিক্ষক দ্বারা তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনাবলি টাঙিয়ে দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া অন্য সব নিয়মও যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাউশির এই কঠোর পদক্ষেপ ও ১১ দফার বাস্তবায়ন এসএসসি পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত করবে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনাগুলো আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

















