তোফাজ্জল হত্যা মামলায় পলাতক ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। আদালতের আদেশে অভিযোগপত্রে নাম থাকা পলাতক ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্রে মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম বর্তমানে জামিনে আছেন এবং জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছেন। অবশিষ্ট ২২ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এই অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দেবেন বলে পূর্বে জানালেও, এদিন তিনি তা জমা দেননি।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার চিত্র উঠে এসেছে পিবিআইয়ের তদন্তে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তোফাজ্জল হোসেনকে মারধরের আগে হামলাকারীরা একটি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে তার পরিবারের কাছে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। তোফাজ্জলের চাচা আব্দুর রব মিয়া সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হামলাকারীরা। এরপর তারা ক্রিকেটের স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন তোফাজ্জলকে বেধড়ক মারধর করে, যার ফলে গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তদন্তে শিক্ষার্থীদের নাম উঠে আসে। এছাড়া, হলের তৎকালীন প্রভোস্ট ও ১৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি দ্বিতীয় মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তবে বর্তমানে সেই মামলাটি স্থগিত রয়েছে।

















