ডেটা সেন্টার ও এআই-এর কারণে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল!

আমেরিকা থেকে শুরু করে ইউরোপ, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে একটি নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। আপনার ঘরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল কি চ্যাটবট বা এআই (AI) ব্যবহারের কারণে বেড়ে যাচ্ছে? সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিশাল সব ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার চাপে সাধারণ গ্রাহকদের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খসছে।
চাহিদার উল্লম্ফন ও সাধারণ গ্রাহকের উদ্বেগ বিগত এক দশকে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও ২০২৪ সাল থেকে তা নাটকীয়ভাবে বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড ৪.৪৩ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছেছে। এই বাড়তি চাহিদার সিংহভাগই আসছে বিশালকার ডেটা সেন্টারগুলো থেকে, যা মূলত এআই এবং ক্লাউড কম্পিউটিং সচল রাখে। ফলে অনেক দেশে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির জন্য এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দায়ী করা হচ্ছে।
রাজনীতি ও ‘বিদ্যুৎ ভ্যাম্পায়ার’ বিতর্ক ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস থেকে শুরু করে অনেক রাজনীতিবিদই এখন প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন সাধারণ মানুষ চ্যাটবট চালানোর জন্য বাড়তি বিল দেবে? অনেক এলাকায় ডেটা সেন্টারগুলোকে ‘বিদ্যুৎ ভ্যাম্পায়ার’ বা রক্তচোষা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৫টি কাউন্টিতে নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা ‘মরোটোরিয়াম’ জারি করা হয়েছে।
কেবল কি চ্যাটবট, নাকি জীবন রক্ষাকারী প্রযুক্তি? বিতর্ক থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডেটা সেন্টারগুলো কেবল চ্যাটবটের জন্য নয়। ক্যান্সার শনাক্তকরণ, নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই বিদ্যুৎ ও কম্পিউটিং ক্ষমতা অপরিহার্য। ফলে চাহিদা কমানোর বদলে উৎপাদন বাড়ানোই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
আসল সংকট কোথায়? বিশ্লেষকদের মতে, আসল সমস্যা বিদ্যুতের ঘাটতি নয়, বরং সঠিক নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকায় বর্তমানে ২,৬০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে, যা বর্তমান সক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। এই বাড়তি উৎপাদন নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঘাড়েই এসে পড়বে।
ভবিষ্যতে এআই-এর আধিপত্য বজায় রাখতে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায়, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ কেবল বিলাসী দ্রব্যে পরিণত হতে পারে।

















