ডাস্টবিনে মরদেহ ফেললে পুলিশ কি ধরবে? এআইকে ঘাতকের প্রশ্ন!

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদালতের নথির বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ খুনের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র কাছে লাশ গুমের উপায় সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা নথিতে দেখা যায়, লিমন ও বৃষ্টিকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল রাতে হিশাম চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেন, “কাউকে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে (ডাম্পস্টার) ফেলে দিলে কী হয়?” চ্যাটজিপিটি এর উত্তরে জানায় যে, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ। এর পর হিশাম পাল্টা প্রশ্ন করেন, “তারা (তদন্তকারীরা) কীভাবে এটি খুঁজে বের করবে?” তবে এ বিষয়ে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে একটি ভারী প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে লিমনের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতে লিমনের মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) তল্লাশিকালে আরও কিছু মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিখোঁজ বৃষ্টির কি না তা শনাক্তের কাজ চলছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল অ্যাপার্টমেন্টের ডাস্টবিনে কিছু কার্ডবোর্ড বক্স ফেলার সময় হিশামকে এক রুমমেট দেখতে পান। সেই ডাস্টবিন তল্লাশি করে পুলিশ লিমনের স্টুডেন্ট আইডি ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করে। এছাড়া হিশামের অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের দাগ এবং লিমনের ডিএনএ যুক্ত পোশাক পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীরা জানান, হিশাম প্রথমে দাবি করেছিলেন তিনি লিমন ও বৃষ্টিকে ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দিয়ে এসেছেন। কিন্তু লিমনের ফোনের লোকেশন এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হিশামের গাড়ি সেই রাতে ব্রিজের ওপর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। সিসিটিভিতে আরও দেখা গেছে, হিশাম সেই রাতে বড় ডাস্টবিন ব্যাগ, লাইসল (পরিষ্কারক) এবং সুগন্ধি স্প্রে কিনেছিলেন।
নিহত জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি দুজনেই ছিলেন ২৭ বছর বয়সি মেধাবী ডক্টরাল শিক্ষার্থী। তারা কেবল বন্ধুই ছিলেন না, একে অপরের জীবনসঙ্গী হওয়ার স্বপ্নও দেখছিলেন। এই নৃশংস ঘটনায় ফ্লোরিডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং ইউএসএফ ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন।
বর্তমানে অভিযুক্ত হিশাম জামিনহীনভাবে হিলসবোরো কাউন্টি জেলে আটক আছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও শারীরিক নির্যাতন, বেআইনি আটক এবং আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

















