ডব্লিউটিও সংস্কারে মৌলিক নীতিমালা বজায় রাখার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রয়োজন হলেও তা যেন সংস্থার মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে—সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিওর ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ‘ডব্লিউটিও রিফরম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুস’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ডব্লিউটিওর মূল লক্ষ্য হলো বাণিজ্যের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। বৈষম্যহীনতা, অন্তর্ভুক্তি এবং ঐকমত্যভিত্তিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন), শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা (ডিএফকিউএফ) এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (এসএন্ডডিটি) বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা আনয়নে সহায়ক হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, গত তিন দশকে বেশ কিছু বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, যা বর্তমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতারই প্রমাণ। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংস্কারের নামে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কাঠামোটি নষ্ট করা ঠিক হবে না, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সংস্কার প্রক্রিয়াটি এমন হতে হবে যাতে সংস্থার অখণ্ডতা ও পূর্বের অর্জন অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সব সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ফল নিশ্চিত হয়।
উল্লেখ্য, ডব্লিউটিওর এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বিশ্বের ১৬৬টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করছেন।

















