টেবিল চাপড়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণকে টেবিল চাপড়ে ও হাসিমুখে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন সরকারি দলের বেঞ্চ থেকে এই উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনে এই দৃশ্যটি ছিল সংসদীয় রাজনীতির এক নতুন মাত্রা।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ‘অনন্য মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন সূর্য উদিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির মুখে গণঅভ্যুত্থানের এই বীরত্বগাথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং হাসিমুখে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান। এ সময় তার পাশে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য সংসদ সদস্যরাও যোগ দেন।
ভাষণের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় তিনি আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই বক্তব্যের সময় সংসদ কক্ষ করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। বিএনপি ও সহযোগী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এবং টেবিল চাপড়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানান। রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত সরকারের সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও ইতিবাচক বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রীসহ সকল সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান প্রদর্শন করেন, যা নবগঠিত সংসদের প্রথম দিনেই এক ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়।

















