জ্বালানির চাপ কমাতে এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করছে সিঙ্গাপুর

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সিঙ্গাপুর এখন এসি ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে। মাত্রাতিরিক্ত এসি ব্যবহার করা দেশটি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন সরকারি অফিসের তাপমাত্রা অন্তত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সিঙ্গাপুরের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ৮ এপ্রিল জানায়, ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার নিজেই জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সরকারি কর্মীদের এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে এবং ব্যবহারের সময়সীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাপমাত্রা প্রতি এক ডিগ্রি বাড়ানোর ফলে প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশটির সরকারি অফিসগুলোতে এখন এলইডি লাইট এবং স্মার্ট সেন্সরের মতো বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
জ্বালানি বাঁচাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। থাইল্যান্ডও সম্প্রতি তাদের জনগণকে এসির তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
মূলত এই অঞ্চলটি তেল ও গ্যাস আমদানির জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৯৯ সালে আধুনিক সিঙ্গাপুরের স্থপতি লি কুয়ান ইউ বলেছিলেন, এয়ারকন্ডিশনার ক্রান্তীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে। এসির কারণেই বাইরের প্রচণ্ড উত্তাপ উপেক্ষা করে ঘরের ভেতর দীর্ঘ সময় কাজ করা সম্ভব হয়েছে।
২০১৫ সালে প্রয়াত লি কুয়ান ইউকে সিঙ্গাপুরের উত্তর-ঔপনিবেশিক রূপান্তরের স্থপতি বলা হয়। তার নেতৃত্বেই এক সময়ের সম্পদহীন দ্বীপটি এশিয়ার অন্যতম উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরে এসি নেই এমন অফিস খুঁজে পাওয়া দায়—যদিও অনেকের মতে দেশটিতে এসির ব্যবহার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। অফিসের তাপমাত্রা এতটাই কম রাখা হয় যে, কর্মীরা প্রায়ই সঙ্গে করে কার্ডিগান বা সোয়েটার নিয়ে আসেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য শহরের মতো এখানে খোলা আকাশের নিচে বা ফুটপাতে দোকান খুব একটা দেখা যায় না; সিঙ্গাপুরের মলগুলো প্রায় পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
শহরের সব বাস এবং ট্রেনও একইভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এমনকি অধিকাংশ বাড়িতেই এসি লাগানো আছে এবং সেগুলো প্রায়শই সারারাত চলে।
কর্মীদের এসির বদলে ফ্যান ব্যবহার এবং জ্বালানি খরচ কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদেরও একই পথ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিঙ্গাপুরে জ্বালানির দাম এরইমধ্যেই বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সামনে আরও বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে জনগণকে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটি এখনও তাদের জরুরি জ্বালানি মজুত থেকে তেল খরচ করেনি কিংবা রেশন ব্যবস্থা চালুর মতো কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

















