ছুটির সন্ধ্যায় সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমান

বাংলাদেশের ইতিহাসে সৃষ্টি হলো এক নতুন ও অনন্য নজির। দেশের কোনো দায়িত্বরত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথমবারের মতো কঠোর প্রটোকল ভেঙে সাধারণ দর্শকদের কাতারে বসে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলায় অবস্থিত ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ (সীমান্ত সম্ভার)-এ গিয়ে তিনি এই ইতিহাস গড়েন।
শুরুতে কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটি দেখতে গিয়েছেন। তবে শুক্রবার রাতেই প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য সংশোধন করে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী মূলত সপরিবারে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীনির্ভর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ উপভোগ করেছেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে সিনেমা হলে পৌঁছান। তারা সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের শো-তে অংশ নেন এবং রাত ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত হলে অবস্থান করে সম্পূর্ণ ছবিটি দেখেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী যখন হলে প্রবেশ করেন তখন হলের সব আলো নেভানো ছিল, ফলে সাধারণ দর্শকরা টেরও পাননি যে তাদের মাঝেই দেশের সরকারপ্রধান বসে আছেন। তবে শো শেষে যখন হলের আলো জ্বলে ওঠে, তখন প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে অতি সাধারণের মতো নিজেদের পাশে দেখে দর্শকরা আবেগাপ্লুত ও অবাক হয়ে পড়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে অত্যন্ত কঠোর। অতীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সরকারপ্রধানরা বিশেষ প্রদর্শনী বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সিনেমা দেখলেও, পাবলিক সিনেপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের সঙ্গে টিকিট কেটে সিনেমা দেখার আনুষ্ঠানিক নজির আগে কখনো পাওয়া যায়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, নিরাপত্তার কারণে তার পক্ষে সিনেমা হলে যাওয়া সম্ভব হয় না। সেই দীর্ঘদিনের প্রথা ও ‘দেয়াল’ ভেঙে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই হলে যাওয়াকে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার টানা ১৬ ঘণ্টা দাপ্তরিক কাজ করে অনন্য নজির স্থাপন করা প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার ছুটির সন্ধ্যায় পারিবারিক বিনোদনের অংশ হিসেবেই এই সিনেমাটি বেছে নিয়েছিলেন। অ্যান্ডি উইয়ারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সায়েন্স ফিকশন ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সাধারণ জীবনযাপন ও জনগণের কাছাকাছি আসার এই প্রচেষ্টা দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করল।

















