চালু হচ্ছে লিজ দেওয়া সব পাটকল, ২০ হাজার মানুষের চাকরির সুযোগ

বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) লিজ দেওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে দেশের পাট খাতে বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এসব মিলে প্রায় ২০ হাজার মানুষের নতুন করে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজেএমসির মহাব্যবস্থাপক মো. মামনুর রশিদ জানিয়েছেন, লিজ প্রক্রিয়ায় থাকা মিলগুলো পুরোপুরি সচল হলে এই সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
বিজেএমসি সূত্র জানায়, মোট ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৬টি মিল লিজ দেওয়ার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ৯টি মিলে দৈনিক প্রায় ১২০ মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, যার বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ শ্রমিক কর্মরত আছেন।
বিজেএমসি বর্তমানে নিজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। মহাব্যবস্থাপক মো. মামনুর রশিদ জানান, একসময় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতন বকেয়া ও শ্রমিক অসন্তোষ নিয়মিত ঘটনা হলেও বর্তমানে নিয়মিত বেতন-ভাতা ও বোনাস নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতি মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ব্যয় হয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। আগে যেখানে আয় ছিল মাত্র ১ কোটি টাকা, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব আয় থেকে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে।
নিজেদের সম্পদ কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিজেএমসি:
বাণিজ্যিক ভবন ও দোকান: বিজেএমসির মালিকানাধীন স্থানে ৩০০টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর করিম চেম্বার এবং চট্টগ্রামের সাত্তার চেম্বারের ভাড়া বৃদ্ধি করে মাসিক আয় ৩০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
পেট্রোল পাম্প: চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলের পেট্রোল পাম্পটি এখন থেকে বিজেএমসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করবে।
স্থায়ী আমানত: মিলের অব্যবহৃত স্ক্র্যাপ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাংকে এফডিআর (FDR) করা হয়েছে, যার মুনাফা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে।
২০২০ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ ঘোষণার পর লিজ পদ্ধতির এই সংস্কার কার্যক্রম পাট শিল্পকে আবারও সচল করার পাশাপাশি হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

















