চাঁদের সীমানা জয় করে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

দীর্ঘ ৫০ বছর পর মানুষের চন্দ্রজয়ের স্বপ্নপূরণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল নাসা। চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন নাসার চার নভোচারী। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি পরিকল্পনামতো অবতরণ করে। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটল ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের।
গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পর ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড মহাকাশে কাটিয়েছেন এই চার বীর। মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেন। অবতরণের পর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সবাই ‘সুস্থ ও স্বাভাবিক’ আছেন বলে জানিয়েছে নাসা।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলটি শব্দের চেয়ে ৩০ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটছিল। এসময় ঘর্ষণের ফলে যানটির চারপাশের তাপমাত্রা সূর্যের উপরিভাগের তাপমাত্রার প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এর আগে আর্টেমিস-১ মিশনে হিট শিল্ড নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিলেও, এবার নাসা অবতরণের পথ কিছুটা পরিবর্তন করে ঝুঁকি কমিয়ে আনে। নাসার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা রব নাভিয়াস এই সফল অবতরণকে একটি ‘আদর্শ মানের প্রবেশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আর্টেমিস-২ মিশনটি ছিল অসংখ্য রেকর্ডে ঠাসা। এই চার নভোচারী পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল (৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার) দূরে ভ্রমণ করেছেন, যা মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার নতুন রেকর্ড। এছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের গৌরব অর্জন করেছেন।
মহাকাশে অবস্থানকালে নভোচারীরা কয়েক হাজার ছবি তুলেছেন এবং চাঁদের বুকে উল্কাপাতের মতো বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই সফরকে একটি ‘নিখুঁত মিশন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “আমরা আবারও চাঁদে নভোচারী পাঠানোর ধারায় ফিরে এসেছি। ২০২৮ সালে চাঁদে আমাদের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির লক্ষ্যে নিয়মিত বিরতিতে এই মিশনগুলো চলবে।”
বর্তমানে নাসা ও মার্কিন সামরিক বাহিনী সাগরে ভাসমান ক্যাপসুলটি থেকে নভোচারীদের বের করে সান দিয়াগোর উদ্ধারকারী জাহাজে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। চলতি সপ্তাহের শেষেই তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই মিশনের সাফল্য ২০২৬ ও ২০২৮ সালের পরবর্তী চন্দ্রাভিযানগুলোর পথ আরও প্রশস্ত করল।

















