গুলি না করেই চীন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ রুখবে!

যুদ্ধ মানেই রণাঙ্গনে কামান-ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন—এতদিন এই ধারণাই ছিল প্রচলিত। কিন্তু বেইজিং এখন এমন এক কৌশল আঁটছে, যেখানে কোনো গুলি না ছুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের গর্বের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলোকে কার্যত অকেজো করে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে চীন। বিশ্লেষক শানাকা আনসেলম পেরেরার মতে, চীনের সদ্য প্রকাশিত ১৪১ পৃষ্ঠার ‘১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ মূলত একটি আধুনিক ‘যুদ্ধ পরিকল্পনা’, যা গতানুগতিক সামরিক সংঘাতের চেয়েও দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ।
চীনের এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং বিশ্ব প্রযুক্তির সরবরাহ ব্যবস্থায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ‘চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে কেবল সেমিকন্ডাক্টর খাতে সীমাবদ্ধ, চীন সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), হিউম্যানয়েড রোবটিক্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং মহাকাশ অবকাঠামো নিয়ে এক বিশাল ‘অস্ত্রাগার’ তৈরি করছে। বিশ্লেষকের ভাষায়, মার্কিন প্রচেষ্টা যদি একটি ‘রাইফেল’ হয়, তবে চীনের এই পরিকল্পনা হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ‘অস্ত্রাগার’।
এই কৌশলের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও কৌশলগত দিকটি হলো ‘বিরল খনিজ’ (Critical Minerals)। আধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন, রাডার, সেন্সর এবং গাইডেন্স সিস্টেমের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে এই বিরল ধাতুর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই খনিজ উপাদানগুলোর প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বেইজিং যখন ধাপে ধাপে তাদের রপ্তানি নীতি কঠোর করছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র এক বড় সংকটের মুখে পড়ছে। পেন্টাগন ২০২৭ সালের মধ্যে চীনের কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা দিলেও, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে।
অর্থাৎ, চীন এমন একটি কৌশলগত ফাঁদ তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কোনো সরাসরি যুদ্ধে নামার আগেই সরবরাহ ব্যবস্থার অভাবে তার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলোকে অকেজো অবস্থায় দেখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামীর বিশ্বশক্তির লড়াই পারস্য উপসাগরের আকাশে নয়, বরং নির্ধারিত হবে কারখানার মেঝে আর খনিজ খনিগুলোতে। বেইজিংয়ের এই ‘নীরব যুদ্ধ’ তাই ওয়াশিংটনের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা।

















