খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে টেনে-হিঁচড়ে বের করা সরাসরি মনিটরিং করেছিলেন শেখ হাসিনা

২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত ও অমানবিক দিন। ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের ৬ নম্বর বাড়ি থেকে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়ার নেপথ্যে ছিলেন স্বয়ং শেখ হাসিনা। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ডিবি রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন।
শেখ মামুন খালেদ গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে তার দীর্ঘ ৩৮ বছরের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের পুরো প্রক্রিয়াটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সরাসরি মনিটরিং করেন। আইনি প্রক্রিয়ার আড়ালে এটি ছিল মূলত শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
রিমান্ডে থাকা এই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, উচ্ছেদের আগের দিন সন্ধ্যায় একটি বিশেষ বাহিনীর সদর দপ্তরে চূড়ান্ত পরিকল্পনা বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় যে, খালেদা জিয়াকে কোনো সুযোগ না দিয়ে চরম অপমানের সাথে বের করে দেওয়া হবে।
মামুন খালেদ আরও জানান, উচ্ছেদ অভিযানে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই পৈশাচিক নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছিলেন বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণের জন্য একজন মেজরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যাতে এই অপমানের দৃশ্যগুলো উচ্চপর্যায়ে প্রদর্শিত হয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮১ সালে সরকার বাড়িটি খালেদা জিয়াকে লিজ দিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক জিঘাংসা থেকে শেখ হাসিনা সরকার তাকে সেই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে। রিমান্ডে থাকা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পুরো অপারেশনটি ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জনসম্মুখে হেয় করার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
বর্তমানে ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকা শেখ মামুন খালেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এই কলঙ্কিত অধ্যায়ের আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

















