কেনিয়ার পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিক গ্রেফতার

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে দুই হাজারের বেশি জীবন্ত ‘কুইন গার্ডেন অ্যান্ট’ বা রানি পিঁপড়া পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এক চীনা নাগরিক ও তার কেনীয় সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে নাইরোবির জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঝাং কেকুন নামের ওই চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করে কর্তৃপক্ষ। তল্লাশির সময় তার লাগেজ থেকে একটি বিশাল পিঁপড়ার চালান উদ্ধার করা হয়। পাচারের অভিনব কৌশল হিসেবে প্রতিটি পিঁপড়াকে আলাদা আলাদা টেস্ট টিউবে ভরে টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
মঙ্গলবার নাইরোবির একটি আদালতে শুনানির সময় জানানো হয়, ঝাং কেকুন এই পিঁপড়াগুলো তার কেনীয় সহযোগী চার্লস মওয়াঙ্গির কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতি ১০০টি পিঁপড়ার জন্য তিনি ১০ হাজার কেনীয় শিলিং (প্রায় ৭৭ মার্কিন ডলার) পরিশোধ করেন।
কেনীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে রানি পিঁপড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনেক শৌখিন সংগ্রাহক এগুলোকে পোষা প্রাণী বা ‘পেট’ হিসেবে সংগ্রহ করেন। তবে ঝাং কেকুন এগুলো ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য নাকি পুনরায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গ্রেফতারকৃতরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। ঝাংয়ের আইনজীবী ডেভিড লুসওয়েতি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “অভিযুক্তরা জানতেন না যে পিঁপড়া সংগ্রহ বা পরিবহন করা আইনত দণ্ডনীয়। তারা কেবল এটি থেকে জীবিকা নির্বাহের একটি পথ খুঁজেছিলেন এবং দেশের বাইরে এগুলো বিক্রির সম্ভাবনা দেখেছিলেন।”
এটি কেনিয়ায় প্রথম ঘটনা নয়। গত বছরের মে মাসে একই অপরাধে চার ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৭ হাজার ৭০০ ডলার জরিমানা করেছিল আদালত। কেনিয়া সরকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী ও কীটপতঙ্গ পাচার রোধে বর্তমানে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

















