কুষ্টিয়ায় পীর হত্যার পরিকল্পনাকারীরা শনাক্ত, মামলার সিদ্ধান্ত পরিবারের

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান শামীম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা গেছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ বলছে, কয়েকটি ফেসবুক পেইজ ও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে এই হামলার উসকানি দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেছেন, মামলার প্রক্রিয়া শুরু করতে স্বজনদের থানায় আসার কথা।
পুলিশ জানায়, প্রথম হামলায় প্রায় ৭০-৮০ জন অংশ নেয়, তাদের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক লোক ছিলেন। ভাঙচুরে সরাসরি অংশ নেয় ৭-৮ জন। আর দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী হামলায় যোগ দেয় বলেও
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক এসআই বলেছেন, যে আইডিগুলো থেকে ভিডিওগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর দুয়েকটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হামলা–ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ১৫-১৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এনে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে শামীমকে তার দরবার শরীফেই কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় দরবার শরীফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। লুটপাট করা হয় বেশকিছু জিনিসপত্র।
ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছ। ভিডিওতে হামলায় অংশ নেওয়া অনেকের মুখ স্পষ্ট দেখা গেলেও, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি। এ ঘটনায় কোনো মামলাও হয়নি।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘একটি ছায়া তদন্ত চলছে এবং আমরা বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছি।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত শামীমের কয়েকজন অনুসারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হলেও এ হামলার পেছনে লুটের উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’
তাদের দাবি, দরবার থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করার পর বাকি সব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শামীমের ব্যবহৃত স্বর্ণের মুকুট, বাঁশি ও নূপুর পাওয়া যাচ্ছে না।
রোববার বিকেলে আসরের নামাজের পর ফিলিপনগর ঈদগাহ ময়দানে শামীমের জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

















