‘কম কষ্টে চাল আনতে যাইনি, চেয়ারম্যান গলা চেপে ধরেছে’

‘কম কষ্টে চাল আনতে যাইনি, চেয়ারম্যান গলা চেপে ধরেছে’— এভাবেই নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের বর্ণনা দিচ্ছিলেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদি ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাফিয়া বেগম (৩৪)।
গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যানের হাতে লাঞ্ছিত হন এই অসহায় নারী। সাফিয়ার অভিযোগ, চাল কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান তাকে ধাক্কা দেন এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরেন।
দীর্ঘ তিন বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত স্বামী জাহাঙ্গীরকে নিয়ে সাফিয়ার অভাবের সংসার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং বড় ছেলের ইটভাটায় খাটার আয়ে কোনোমতে দিন কাটে তাদের।
সাফিয়া বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার স্বামী মেলাই অসুস্থ। ক্যানসার রোগে ভুগছে বলে রাতে বিছানায় ঘুমাতে পারে না। শরীরের শিরা ধরে টাটায়। যেটুকু সময় ঘুমায়, মাথা উঁচু করে থাকতে হয়। খুব কষ্টে পড়ে চাল নিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কপালে জুটল লাঞ্ছনা। মেয়েডারে একটা ঈদের কাপড়ও কিনে দিতে পারিনি।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চাকুলিয়া গ্রামের পলি পারভিন জানান, সাফিয়ার স্বামী যে ক্যানসার রোগী তা এলাকার সবাই জানে। সেখানে উপস্থিত অনেকেই দেখেছেন কীভাবে চেয়ারম্যান একজন অসহায় মহিলার গলা চেপে ধরেছেন। পলি এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শহিদ শেখও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে নলদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পাখী বলেন, “ওই নারী চাল নিতে এসে গালিগালাজ করছিল। আমি তাকে মাথায় হাত দিয়ে বুঝিয়েছি মাত্র, গায়ে হাত দেইনি।”
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাম্মী কায়সার এ বিষয়ে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: কালের কন্ঠ

















