ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে ‘শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করলো ইরান

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। মঙ্গলবার জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
ইরান সরাসরি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং চলমান যুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে সমর্থন দিচ্ছে এমন দেশগুলোকে তারা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে এই দেশগুলোর কোনো বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ ক্যাটাগরিতে পড়বে না এবং তাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।
ইরানের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো আগ্রাসী শক্তি যেন হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ বা বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। এই ক্যাটাগরির জাহাজগুলো সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় রক্ষা করে এই রুট ব্যবহার করতে পারবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ইরানের এই চিঠির অনুলিপি ইতোমধ্যে আইএমও-র সব সদস্য রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যাকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এই রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজকে সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে ইরানের আইআরজিসি। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্যমতে, গত কয়েক সপ্তাহে এক ডজনেরও বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা সংকটের কারণে এই রুটটি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ইরানের এই নতুন বার্তা মূলত শত্রু ও মিত্র দেশগুলোর জন্য আলাদা নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

















